গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : অনিবন্ধিত ও নবায়নবিহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এরই অংশ হিসাবে কালীগঞ্জের উলুখোলা বাজারে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়ে ‘মর্ডান ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার’কে ৫হাজার টাকা জরিমানা এবং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৮ মে) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আক্তার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী উলুখোলা বাজার এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করা ”উলুখোলা মর্ডান ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার’’-এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আক্তার। সে সময় নিবন্ধন সংক্রান্ত কোন ধরনের নথিপত্র দেখাতে পারেনি মর্ডান ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ। পরে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও একই দিন বিকেলে কালীগঞ্জ পৌর শহরে অবস্থিত নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকা শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সে সময় ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করা হয়েছে। পরে আবেদন সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাদের সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস.এম মনজুর-এ-এলাহী বলেন, কালীগঞ্জে নিবন্ধন বিহীন এবং নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার উলুখোলা মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা এবং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন বিহীন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আক্তার বলেন, নিবন্ধন বিহীন কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়ে ‘মর্ডান ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার’কে ”মেডিকেল প্রাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরীজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্স ১৯৮২” এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিবন্ধন বিহীন সকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য: কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ‘উলুখোলা মর্ডান ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার’ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আক্তার। এরপরও তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
প্রসঙ্গত: গত বুধবার (২৫ মে) অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মনিটরিং এবং সুপারভিশন বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে ৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেসব সিদ্ধান্তগুলো হলো-
১. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে হবে। অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
২. যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে কিন্তু নবায়ন করেনি, তাদের নিবন্ধন নবায়নের জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নবায়ন না করলে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
৩. বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অপারেশন করার সময় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া ও ওটি অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ডাক্তার ছাড়া অন্যদের রাখা হলে সেসব প্রতিষ্ঠান, মালিকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধনের আবেদন করেছে, তারা যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইসেন্স পায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স পাওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠান কোনোভাবে তার কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
আরো জানতে……..
‘উলুখোলা মর্ডান ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার’ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন