আজমত উল্লা আমার বাসায় এসেছে, খেয়েছে আবার ষড়যন্ত্রও করেছে: জাহাঙ্গীর আলম

বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বহুল আলোচিত জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, নৌকা আমার ভালবাসার জায়গা, প্রধানমন্ত্রী আমার শ্রদ্ধার জায়গা। এখানে আজমত উল্লা খানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আজমত উল্লা খান আমার ক্ষতি করার সকল কিছুর পিছনে জড়িত ছিল। আজমত উল্লা আমার বাসায় এসেছে, খেয়েছে। এখানে বসে সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এ কারণে আমার মা বলেছে তুমি আজমত উল্লার ভোটে যাবে না। তুমি আমার ভোটে থাকবে। মা যখন সন্তানকে হুকুম করেন- আল্লাহর দুনিয়ায় আমি কি আমার মার পাশে থাকবো, নাকি আজমত উল্লাহ পাশে থাকবো?
মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে মহানগরের ছয়দানা এলাকার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, আমি দলের সাথে বেইমানী করি নাই। দলের সাথে বেইমানী করবোও না। আমি চেয়েছিলাম সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে থেকে সত্য প্রকাশ করতে। এতোদিন চোখের জল ফেলেছি, আজ আর ফেলবো না।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কোনও পদে নেই। সদস্য পদও নেই। আমি একজন সমর্থক। আমাকে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মী কেন লাগবে? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাবো আমাকে পার্টির সমর্থক হিসেবে থাকার জায়গাটুকু দেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য কেন্দ্রীয় সকল নেতার বাসায় ও অফিসে গিয়েছি। সবাইকে বলেছি, আমাকে একটু সত্য বলার সুযোগ দিন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনারা কথা বলুন, না হয় আমাকে কথা বলার জন্য একটু সুযোগ করে দিন। সকল নেতৃবৃন্দ আমাকে বলেছে, তুমি কোন অন্যায় করো নাই, তোমার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে তোমার বিষয়টা বলব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, প্রধানমন্ত্রী কাছে এ বিষয়টিকে উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা জানি না। আমি চেয়েছিলাম সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে থেকে সত্য প্রকাশ করতে।
তিনি বলেন, আমার মা বলেছেন- আমার ছেলের উপর অন্যায় করা হয়েছে। আমার ছেলে যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে মা হিসাবে আমি বিচার করব। গাজীপুরের জনগণ আছেন, তারা বিচার করবে। এজন্য আমার মা প্রতিবাদ হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চাইছে সুষ্ঠু সুন্দর ভোট করতে। সরকারও চাইছে জনগন যাতে ভোট দেয়। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি একসাথে এ কাজটা করে, এখানকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে। ভোট দিতে। আর যদি পেশিশক্তি ব্যবহার করা হয়, মারামারি করা হয়, এক ভাই আরেক ভাইকে গালাগালি করে তাহলে এটা পার্টির জন্য ক্ষতিকর।
কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গাজীপুরে এসেছেন দাওয়াত খেয়ে যান। গাজীপুরের মানুষকে আপনারা থ্রেট দিবেন না। আপনারা নেতা, আমরা কর্মী। এখানে কর্মীদের উপর অন্যায় হচ্ছে, অবিচার হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গাজীপুরের ভোটের পরিস্থিতিটা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতার জন্য না, পদের জন্য না, সত্যটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমি মায়ের সাথে আছি। আমি বলেছি, যে কোন সময় আমি হারিে যেতে পারি, আমার ক্ষতি হতে পারে। আমার মা বলেছে, আমার সন্তান যদি একজন হায়িয়ে যায়, গাজীপুরে লক্ষ লক্ষ সন্তান আছে।
স্ত্রীর তালাকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা পারিবারিক ব্যাপার। এ বিষয়ে আলাপ করতে চাই না।
এ সময় তিনি তার মা জায়েদা খাতুনের জন্য টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট ও দোয়া চান ।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। সে এলাকার উন্নয়ন করেছে। মানুষের জন্য কাজ করেছে। এলাকায় ভোট চাইতে গেলেই এলাকাবাসীর সেই ভালোবাসা বুঝতে পারি। আপনারা আমার পাশে থাকবেন। আগামী ২৫ তারিখের নির্বাচনের টেবিল ঘড়ি প্রতীকে সবার কাছে ভোট চাই।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। দল মনোনয়ন দেয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানকে। দলের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থী হলেও যাচাই-বাছাইয়ে জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তবে তাঁর মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। মায়ের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে নামা জাহাঙ্গীরকে গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এর আগেও জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দলে ফেরার প্রায় পাঁচ মাস পর এবার তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।



