নিজস্ব সংবাদদাতা : পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলির বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির গেইট, ১৪টি মোটরসাইকেল ও ৬ টি প্রাইভেটকার ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পরে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজন হলো, বড়কাউ এলাকার মতিবুর রহমানের ছেলে মঞ্জুর হোসেন (২৪), সিরাজুল ইসলামের ছেলে হায়দার মিয়া (২৬) ও উত্তরখানের কাচকুড়া এলাকার মুশফিকুর রহিম।
এছাড়াও অন্য আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সাকিব হাসান, নাইম, মাহাবুব মোল্লা, রায়হান মোল্লা, দুলাল মিয়া, সোহাগ মিয়া, সেলিম মিয়া, দিপু মিয়া, অপু মিয়া,লিটন মিয়া, গোলজার মিয়া, রাকিব মিয়া, রাজিব হোসেন, শিমুল মিয়া, আতিকুর হোসেন, সোবাহান মিয়া, রাকিব মিয়া, সাগর মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম, সুলতান মিয়া, সুমন মিয়া, রবিন মিয়া, দবির মিয়া, নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম, জাহিদুল, মুজিবুর রহমান।
মামলার বাদী নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলির ছোট ভাই আলিউল ইসলাম {মামলা নং ১১ (২) ২৪}।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাদীর পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে আলিউল ইসলাম বড়কাউ এলাকায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার নিয়ে উলুখোলা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বড়কাউ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে আসামিরা গাড়ির সামনে এসে পথরোধ করে গাড়িতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে থাকে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বাদী দ্রুত বাড়ি ফিরে তার ভাই চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলিকে ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবগত করেন। পরে বাদী ও তার ভাই চেয়ারম্যান অলিসহ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা বাড়িতে থাকা অবস্থায় রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে আসামিরা লাঠি, লোহার রড, ইট পাটকেল সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে বিভিন্ন ব্রান্ডের মোট ১৪ টি মোটরসাইকেল ও ৬ টি প্রাইভেটকার (আনুমানিক মূল্য এক কোটি চৌদ্দ লাখ পঁচিশ হাজার টাকা) ভাংচুর করে। সে সময় অভিযুক্তরা চেয়ারম্যান অলিউল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু গেইট বাড়ির ভেতর থেকে লক করা থাকায় গেইট ভাংচুর করলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
অপরদিকে বড়কাউ এলাকার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোমবার মাগরিবের নামাজ শেষ করে আমি স্থানীয় হরদি বাজারের একটি চা দোকানে বসে থাকি। সে সময় চেয়ারম্যান অলির নেতৃত্বে তার আত্মীয়-স্বজনসহ ৫০-৬০ জন এসে আমার ভাই মাসুদ ও আমাকে মারধর করেছে। পরে এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেছেন।
সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।