কালীগঞ্জে নাভানা রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে বালু ভরাট, তিন ট্রাক জব্দ

কালীগঞ্জে নাভানা রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে বালু ভরাট, তিন ট্রাক জব্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জলাশয় ও নিচু জমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট কার্যক্রম চালাচ্ছিল নাভানা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বালুভর্তি তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (২৪ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া, পারোয়ান ও বাগদী মৌজায় জলাশয় ও নিচু জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে আসছিল নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছিল স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে ইউএনও তনিমা আফ্রাদ অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় ট্রাকচালকরা বালু বোঝাই ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বালুভর্তি একটি ড্রাম ট্রাক ও দুইটি লড়ি ট্রাক জব্দ করা হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ বলেন, “নাভানা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি অনুমোদনবিহীনভাবে বালু ভরাট করছিল। শনিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে বালুভর্তি তিনটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৪ জুন পানজোড়া সুখপাড়া এলাকায় নাভানা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির বালু ভরাট কার্যক্রমে তৎকালীন ইউএনও এস. এম. ইমাম রাজী টুলু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, নাভান রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী পার্বত্য রাঙামাটির কোতয়ালী থানার সুখমনি চাকমার ছেলে বিপুল চাকমা (২১), নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পুবাটি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৩), ভেকু চালক কালীগঞ্জের দক্ষিণ সোম এলাকার নুরুদ্দিনের ছেলে সজল (৩১) এবং স্থানীয় পানজোড়া এলাকার মোতালেব মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লা (৩২)।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট মামলার শুনানি শেষে নাভানা রিয়েল এস্টেটসহ ২২টি আবাসন কোম্পানির বিরুদ্ধে জলাশয় ও নিচু জমি ভরাটে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।

এছাড়াও জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই জালিয়াতি ও নিয়মবহির্ভূত উপায়ে জমির মালিক দাবি করে নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড পারোয়ান মৌজার ৪.০৮৩০ শতাংশ (নথি নং: ১৫৬৭) এবং পানজোড়া মৌজার ৩.৩৩ শতাংশ (নথি নং: ১৫৬৬) কৃষিজমি নিজেদের নামে নামজারির জন্য আবেদন করেছিল। তবে প্রশাসন সেই আবেদন নামঞ্জুর করে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি ওই জমিগুলো দখলে রেখে সেখানে বালু ভরাট ও প্লট বিক্রির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কালীগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাভানা আবাসন প্রকল্পে‌ বালু ভরাট, ৪ জনের কারাদণ্ড