গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন ২,০০০ ন্যাশনাল গার্ডস্ সেনা মোতায়েনের। বিক্ষোভ যতটা না নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বরং তা আরও রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শুক্রবার (স্থানীয় সময়) থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার নাগাদ ভয়াবহ আকার নেয়। শয়ে শয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কড়াকড়ির প্রতিবাদে অংশ নেন। প্রেসিডেন্টের মতে, ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় ফেডেরাল সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, লস অ্যাঞ্জেলেসের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে ২০০০ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসীদের ধরপাকড়ে উত্তাল জনতা
গত কয়েক দিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এই ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে, যার ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
গভর্নরের কড়া প্রতিক্রিয়া
ফেডারেল সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উস্কানি। লস অ্যাঞ্জেলেস প্রশাসন যথেষ্ট সক্ষম আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে। এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করবে।”
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
গভর্নর এবং মেয়রের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা নিজেদের কাজ করতে না পারেন, তবে ফেডারেল সরকার হস্তক্ষেপ করবেই।” প্রতিবাদকারীদের তিনি সরাসরি “দাঙ্গাবাজ ও ডাকাত” বলে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনী প্রচার থেকেই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক বিতর্কিত অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসের এই সাম্প্রতিক ঘটনা তারই ধারাবাহিক অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।