যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ট্রাম্পের ক্ষোভ

যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ট্রাম্পের ক্ষোভ

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১২ দিনের সংঘাতের অবসানে যে সমঝোতা হয়, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উভয় পক্ষের অভিযানে ভেঙে পড়ে সেই শান্তি।

মঙ্গলবার ট্রুথ সোশাল-এ বড় অক্ষরে লিখে ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলকে সতর্ক করেন: “বোমা ফেলো না। যদি ফেলো, সেটি বড় ধরনের লঙ্ঘন হবে। তোমাদের পাইলটদের এখনই ফিরিয়ে আনো!”

পরের পোস্টে তিনি জানান, “ইসরায়েল ইরানকে আক্রমণ করবে না। সব বিমান ঘুরে ফিরে আসবে এবং আকাশে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ স্যালুট’ দেবে। কেউ আহত হবে না, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে!”

এরপর হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি, যেখানে ট্রাম্প বলেন: “আমি খুশি নই যে ইসরায়েল হামলায় গেছে। একটা রকেট ছোড়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা সময়সীমা পেরিয়ে এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট ছিল। এরপর ইসরায়েল যা করল, সেটা বাড়াবাড়ি। এভাবে চলতে পারে না। হাস্যকর!”

তিনি আরও বলেন, “চুক্তি হওয়ার পরই ইসরায়েল বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। সেটা পছন্দ হয়নি আমার। তারা বলছে, ইরানের একটি রকেট তাদের লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু সেটা তো কোথাও গিয়ে পড়েনি!”

ট্রাম্প জানান, তিনি চান ইসরায়েল শান্ত হোক: “আমাকে এখন ইসরায়েলকে ঠান্ডা করতে হবে। কারণ তারা আজ সকালে আবার অভিযান চালিয়েছে। এটা আমরা চাই না।”

যদিও তিনি ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ, তবুও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প।

“আমার মনে হয়, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তারা হয়তো ইচ্ছাকৃত করেনি, কিন্তু তাদের লোকজনকে থামাতে পারেনি।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “তাদের ১২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রথম ঘণ্টাতেই সব কিছু ফেলে একে অপরকে মারতে শুরু করল। এটা আমি মোটেও পছন্দ করিনি — না ইরানের, না ইসরায়েলের।”

সবশেষে ট্রাম্প বলেন, “এই দুই দেশ এতদিন ধরে এত যুদ্ধ করেছে যে, এখন তারা নিজেরাই জানে না কী করছে। বুঝতে পারছ?”

এর আগে ইরান একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিহত করে। এর পরেই ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পরও ইরানের দিক থেকে রকেট হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়, এবং ইসরায়েল পাল্টা বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, যুদ্ধবিরতির পরও ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে — যা সমঝোতার নাজুক বাস্তবতা তুলে ধরে।