গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ট্রাম্প প্রশাসনের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চালানো গণগ্রেপ্তার অভিযানকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ফেডারেল বিচারক। আদালতের মতে, ওই অভিযানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এজেন্টরা বেআইনিভাবে “ভ্রাম্যমাণ টহল” চালিয়ে জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে লোকজনকে আটক করে এবং তাদের আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার অধিকারও খর্ব করে।
বিচারক মামে এউসি-মেনসা ফ্রিম্পং এক ৫২ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, কিছু গ্রেপ্তারের কৌশল ছিল অপহরণের মতো। টিন্টেড কাঁচযুক্ত অচিহ্নিত গাড়িতে মুখোশধারী এজেন্টরা অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের শিকল পরিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “এ ধরনের অভিযান চতুর্থ সংশোধনী (Fourth Amendment) অনুযায়ী ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে।”
বিচারক আরও জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এজেন্টরা ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যাঞ্চলে আর কোনো অভিবাসন গ্রেপ্তার করতে পারবে না, যদি না নির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকে যে, সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।
কার ওয়াশ অভিযান ‘যথেষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে নয়’
রায়ে উল্লেখ করা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কার ওয়াশে চালানো গ্রেপ্তার অভিযান যুক্তিসংগত নয়। আদালতের মতে, “কার ওয়াশে অবৈধ অভিবাসীরা কাজ করতে পারে” — এমন সাধারণ ধারণা দিয়ে কাউকে টার্গেট করা যুক্তিসংগত সন্দেহের পর্যায়ে পড়ে না।
‘লাতিনোদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে’
বিচারক ফ্রিম্পং বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, এই সব অভিযান অতিমাত্রায় লাতিনো সম্প্রদায়ের মানুষদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
সরকার পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে এজেন্টদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তবে বিচারক এ যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেন, “এটা প্রশিক্ষণের বিষয় নয়, বরং প্রচলিত আইন মানার বিষয়।”
বিচার বিভাগে সরকারের আপত্তি খারিজ
বিচারক ফ্রিম্পং সরকারের করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে তার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে, এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নতুন গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে পারবে না।
এই রায়ের প্রেক্ষিতে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এটি অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।