কালীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

কালীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ছিনতাইয়ের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পরও ছিনিয়ে নেয়া আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া আসামি হলেন জামালপুর ইউনিয়নের বালুয়াভিটা এলাকার নুরুল ইসলাম মোল্লার ছেলে হৃদয় মোল্লা ওরফে রিদয় (২২)।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন—একই এলাকার মৃত আবু তাহের মোল্লার ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে ইসরাফিল (৪০) এবং সাত্তার মোড়লের ছেলে মোমেন মোড়ল (৩৮)।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যা ঘটেছিল?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে বালুয়াভিটা এলাকার প্রবাসী বিল্লালের স্ত্রী মোসা. ফাহিমা বেগম (২৮) বাদী হয়ে স্থানীয় মৃত মতি মোড়লের ছেলে সাগর (২৭), হৃদয় মোড়ল (২২), মৃত শের আলী মোড়লের মেয়ে সোনাবান (৪৭), মতি মোড়লের মেয়ে সিমা আক্তার (২১) এবং মোসা. জাহানারা ওরফে জান্টুর (৪০)-এর বিরুদ্ধে তার বাড়িতে হামলা, মারধর ও গহনা চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ২৪(৭)২৫)। পরে ওই রাতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আসামি গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায়। অভিযানে এসআই কামরুল ইসলাম, এএসআই গোপাল চন্দ্র সূত্রধর এবং কনস্টেবল গোলাম কিবরিয়াও অংশ নেন। রাত সোয়া ১১টার দিকে এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি হৃদয় মোড়লকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে থানায় নেওয়ার পথে, জামালপুর খেয়াঘাট এলাকায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল দুর্বৃত্ত পুলিশের পথরোধ করে হৃদয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার পর উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশকে মারধর ও হুমকি দিয়ে হৃদয় মোড়লকে ছিনিয়ে নেয় তারা।

ঘটনার পর এসআই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ২৭(৭)২৫)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, “আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামি হৃদয় মোড়লকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”