দেশের জিডিপিতে চামড়া শিল্পের অবদান ০.৬০ শতাংশ

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিখাত হিসেবে পরিচিত চামড়া শিল্প নিয়ে ‘চামড়া শিল্পে পরিবেশগত প্রভাব এবং অধিকার’ শীর্ষক এক মৈত্রী বন্ধন সভা গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সোহেল রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের এবং আকন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জাহিদ হাসান আকন্দ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে চামড়া শিল্প সম্ভাবনাময় একটি খাত হলেও তা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের আমদানি-রপ্তানি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের শিল্প আয়ে চামড়া খাতের অবদান ২ শতাংশ এবং রপ্তানিতে অবদান ৩.৮ শতাংশ। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ০.৬০ শতাংশ।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, দেশের চামড়া শিল্পে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এ খাতে কর্মরত থাকলেও এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ লাখে উন্নীত করা সম্ভব বলে মত দেন বক্তারা।
তবে, মানসম্মত চামড়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার পরও বাংলাদেশ এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো প্রধান বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে চীনের মতো দেশে কম মূল্যে ক্রাস্ট লেদার রপ্তানি করতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্যের বাজার প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার, যা ০.৫ শতাংশেরও কম।
তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে চামড়া শিল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ বর্জ্য থেকে টাইলস, বন্ডেড লেদারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।



