
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কুমিল্লার হোমনা উপজেলার আসাদপুর গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কেন্দ্র করে চারটি মাজারসহ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হোমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে তিতাস থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘বেমজা মহসিন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পুলিশ অভিযুক্ত মো. মহসীন (৩৫) কে আটক করে। তিনি উপজেলার ফকিরবাড়ির আলেক শাহর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ইসলামী যুব সেনার স্থানীয় এক নেতার করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা এলাকায় জড়ো হয়ে হ্যান্ডমাইকে মাজারে হামলার ঘোষণা দেয়। তারা প্রথমে মহসীনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এরপর কফিল উদ্দিন শাহ, আবদু শাহ, কালাই শাহ (কানু শাহ) এবং হাওয়ালি শাহর মাজারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে একটি মোটরসাইকেলসহ বাড়িঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর পরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খাঁন ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেমালিকা চাকমা।
গ্রেপ্তার হওয়া মহসীনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারো উসকানি বা পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



