
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ওমরাহ ভিসার মেয়াদ তিন মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভিসা ইস্যুর তারিখের পর এক মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে ঢুকতে হবে। তবে সে দেশে ঢোকার পর হাজিদের অবস্থানের মেয়াদে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই তারা সৌদি আরবে তিন মাস অবস্থান করতে পারবেন।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সৌদি গণমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
আল-অ্যারাবিয়া জানায়, নতুন এই নিয়ম আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওমরাহ ভিসার এই পরিবর্তন মূলত মৌসুমে বাড়তি ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও হাজিদের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য করা হয়েছে।
চলতি বছর নতুন ওমরাহ মৌসুম শুরু হওয়ার পর, অর্থাৎ গত জুন মাসের প্রথম দিক থেকে এখন পর্যন্ত চার মিলিয়নেরও (৪০ লাখ) বেশি বিদেশি মুসল্লি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মাত্র পাঁচ মাসেই এই সংখ্যা আগের সব মৌসুমের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নতুন এই ওমরাহ মৌসুমে হাজিদের আগমন এবং নিবন্ধনের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা কর্তৃপক্ষকে নিয়মে পরিবর্তন আনতে প্ররোচিত করেছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো হাজি যদি ভিসা ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ না করেন, তবে তার ওমরাহ ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ ভিসা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে, না হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
সৌদি আরবের ন্যাশনাল কমিটি ফর ওমরাহ অ্যান্ড ভিজিটের উপদেষ্টা আহমেদ বাজাইফার বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতির অংশ। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর এবং মক্কা ও মদিনার তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং দুই পবিত্র শহরে হাজিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সৌদি আরবে অবস্থানকালে যেকোনো ধরনের ভিসাধারী মুসল্লি ওমরাহ পালন করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ই-ট্যুরিস্ট, ট্রানজিট, শ্রম ও অন্যান্য ভিসাধারীও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এই পুরোনো সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সৌদি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে অনেকে ওমরাহ মৌসুমে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। ভিসার মেয়াদ কমানোয় যাত্রীরা দ্রুত ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত হবেন এবং মক্কা-মদিনায় অতিরিক্ত ভিড়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



