হাসমত আলী : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) শীঘ্রই বাজারে আনছে ভিটামিন-ই বা টোকোফেরল সমৃদ্ধ উচ্চ ফলনশীল ধানের নতুন জাত ব্রি ধান-১১৫। ধানটি প্রতি কেজিতে প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-ই ধারণ করবে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ব্রি’র উর্ধ্বতন যোগাযোগ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল মোমিন জানান, ভিটামিন-ই হলো একটি চর্বিতে দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে মুক্ত র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। এছাড়া ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে, কোষ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে, চুলের বৃদ্ধি উদ্দীপিত করতে এবং স্নায়ু ও পেশীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক।
তিনি আরও জানান, ভিটামিন-ই-এর ঘাটতি থাকলে মানুষের শরীরে পেশী দুর্বলতা, দৃষ্টি সমস্যা, ক্লান্তি এবং অসাড়তার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে ব্রি শীঘ্রই বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে নতুন এই জাত।
ব্রি ধান-১১৫ এর জীবনকাল ১৪০ দিন, এবং এটি বোরো মৌসুমে আবাদযোগ্য। ধান গাছের উচ্চতা ১০৭ সেমি, অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩%, ধানের রং সোলালী, চালের রং কালো এবং চাল মধ্যম সরু দানা আকৃতির। হেক্টর প্রতি ফলন ৭.৪ টন, তবে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় এটি ৮.৬ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্রি’র এ নতুন উদ্ভাবন কৃষকদের জন্য ফলনশীলতার পাশাপাশি পুষ্টিগুণ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।