
নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর–২ আসনে স্বামী–স্ত্রী দু’জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এম মঞ্জুরুল করিম রনি। একই সঙ্গে তার স্ত্রী তাপসী তন্ময় চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তারা পৃথকভাবে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এম মঞ্জুরুল করিম রনি বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত এম এ মান্নানের সন্তান।
গাজীপুর–২ আসনে বিএনপির একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত দলটির মনোনয়ন পান এম মঞ্জুরুল করিম রনি।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর–২ আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও তার স্ত্রী তাপসী তন্ময় চৌধুরী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার।
অন্য প্রার্থীরা হলেন—মুহাম্মদ হোসেন আলী (জামায়াতে ইসলামী), হানিফ সরকার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সালাহ উদ্দিন সরকার (স্বতন্ত্র), মো. জিয়াউল কবির (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি), মাসুদ রেজা (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল–মার্কসবাদী), আতিকুল ইসলাম (গণফ্রন্ট), জিত বড়ুয়া (স্বতন্ত্র), সরকার তাসলিমা আফরোজ (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), মো. মাহবুব আলম (জাতীয় পার্টি), মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া (জাতীয় পার্টি), খন্দকার রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিশ), মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম (জনতার দল), মো. আব্দুল কাইয়ুম (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), আব্বাস ইসলাম খান (এবি পার্টি), আলী নাছের খান (এনসিপি) এবং মাহফুজুর রহমান খান (গণ অধিকার পরিষদ)।
উল্লেখ্য, গাজীপুর–২ সংসদীয় আসনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৯ থেকে ৩৯ নম্বর এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি এ আসনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ৪০১ জন, নারী ভোটার ৪ লাখ ৯১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।
গাজীপুর–২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২৭২টি। ভোটকক্ষের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৯টি, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৯৯টি স্থায়ী এবং ৯০টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ।
সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।



