‘জুলাই যোদ্ধা’ সুরভীর জামিন

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিয়াকৈর থানার চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন আদালত।
পরে সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৭টার দিকে তিনি গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পায় সুরভী।
এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এ শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে সুরভীর বিরুদ্ধে দেওয়া দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফিজ উল্লাহ দর্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের বলেন, আদালতের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে একই দিন দুপুরে সুরভীর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদীর আদালত দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকের এক মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিককে সংবাদ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় আসতে বলেন সুরভী। পরে ওই সাংবাদিক মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে রওনা হলে বিমানবন্দর এলাকায় সুরভী তার সঙ্গে যোগ দেন। এরপর জয়দেবপুর চৌরাস্তা না গিয়ে তাকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সুরভীর আরও তিন সহযোগী সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকের স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিককে জোরপূর্বক টি-শার্ট খুলে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। পরে মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ না করতে প্রাণনাশ ও ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক গত বছরের ২৬ নভেম্বর কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর একটি বাসা থেকে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে সুরভীর মুক্তির দাবিতে ‘অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’র ব্যানারে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকেরা। এছাড়া কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় সুরভী নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন কথা বলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।



