ইরানকে চুক্তির জন্য দশ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেন ট্রাম্প

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে পুনরায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানের হাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আর মাত্র দশ দিনের সময় রয়েছে। অন্যথায় তাদের আরও সামরিক অভিযানের মুখে পড়তে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরান জুড়ে চালানো ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযান গাজ়ায় যুদ্ধবিরতির পথ সুগম করেছিল। তাঁর যুক্তি, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা না হলে ইরানের ‘হুমকি’র কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি শান্তি-প্রক্রিয়ায় রাজি হত না।
ট্রাম্প বলেন, ”এখন আমাদের হয়তো আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে, অথবা নাও হতে পারে। সম্ভবত আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। আগামী দশ দিনের মধ্যেই আপনারা সব জানতে পারবেন।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এল এমন এক পরিস্থিতিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, জেনিভায় দুই পক্ষের বৈঠকে ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে এবং একটি চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ‘নির্দেশক নীতি’র বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেখানে বর্তমানে দু’টি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রাখা হয়েছে।
চুক্তির শর্ত নিয়ে টানাপড়েন
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হ্রাস করে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায় আসতে রাজি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের যে কোনও ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে তাদের আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপরেও বিধিনিষেধ চাইছে, যা ইরান তাদের ‘অপরিবর্তনীয় প্রতিরক্ষা নীতি’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, তাঁর কূটনৈতিক সহযোগী স্টিভ উইটকফ এবং জামাই জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক’ করেছেন। সতর্ক করে তিনি বলেন, ”আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতেই হবে। না হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ”এখনই ইরানের আমাদের সঙ্গে একই পথে আসার সময়। তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়, তা হলে ভালোই হবে। আর যদি না দেয়, সেটাও ভালো হবে — তবে তখন রাস্তাটা হবে সম্পূর্ণ আলাদা।”
সূত্র: আল জাজ়িরা



