গাজীপুরে বন্ধ পাম্প থেকে ৩৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, ব্যবস্থাপকের কারাদণ্ড

ফিলিং স্টেশনটিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও 'তেল নেই' অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

গাজীপুরে বন্ধ পাম্প থেকে ৩৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, ব্যবস্থাপকের কারাদণ্ড

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আবদুল আলী ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ৩৩ হাজার ৯৪০ লিটার ডিজেল ও অকটেন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও জেলা প্রশাসন।

অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত রাখার অভিযোগে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, পাম্পটি থেকে ২৮ হাজার ৫২১ লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার ৪১৯ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। 

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম বাবুল (৬০) কোনাবাড়ি থানার বাইমাইল এলাকার বাসিন্দা।

বিজিবি-৬৩ গাজীপুর ব্যাটালিয়ন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে কোনাবাড়ীর বাইমাইল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফিলিং স্টেশনটিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘তেল নেই’ অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে অবৈধ মজুত ও বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে দমন করা হবে।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে সারা দেশে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।