গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : জনপ্রিয় বাংলাদেশি ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সফরের মাঝপথেই তাঁর ভিসা বাতিল করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
হিটলারের প্রশংসা এবং ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই বাংলাদেশি বক্তা ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়া সার্কেলের আয়োজনে অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছিলেন। ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় তাঁর বক্তৃতার কথা ছিল। কিন্তু সফর শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় তাঁর ভিসা বাতিল করে দেয়।
আজহারি তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতায় হিটলারের ইহুদিনিধন অভিযানকে ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইহুদিদের ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ ও ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। এ ছাড়া হিন্দু ধর্ম ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টনি বার্ককে তাঁকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানায়। এরপরই ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
লিবারেল সিনেটর জনো ডুনিয়াম প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং নিজের দেশে নজরদারির মধ্যে থাকা একজন বক্তাকে কীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা দেওয়া হলো।
তিনি বলেন, ‘ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য, হিন্দু ধর্মের প্রতি কটাক্ষ এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে হেয় করার বহু নজির থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ভিসা দেওয়া হয়েছিল—এবং এই তথ্য সব সময় সর্বজনবিদিত ছিল।’
এটাই প্রথম নয় যে আজহারি কোনো দেশে বাধার মুখে পড়লেন। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে একটি ইসলামী সম্মেলনে যোগ দিতে গেলে তাঁকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।
সিনেটর ডুনিয়ামের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার তাঁকে চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার এবং উগ্রবাদী ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি দেখানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। তাঁর সমাবেশগুলো পর্যবেক্ষণে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ধর্মীয় সমাবেশে বক্তৃতার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল।
বর্তমানে আজহারি অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।