গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা বৃহস্পতিবার ডেমোক্র্যাটদের একটি প্রস্তাব আটকে দিয়েছে, যেটি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানাত। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটদের বারবার করা প্রচেষ্টা আবারও ব্যর্থ হলো।
নিউ জার্সির রিপাবলিকান প্রতিনিধি ক্রিস স্মিথ একটি সংক্ষিপ্ত ‘প্রো ফরমা’ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এবং ডেমোক্র্যাটরা সর্বসম্মত সম্মতির মাধ্যমে প্রস্তাবটি পাস করার চেষ্টা করার আগেই অধিবেশন শেষ করে দেন। ইস্টার বিরতিতে কংগ্রেস ওয়াশিংটনের বাইরে থাকায় এই প্রো ফরমা অধিবেশন হয়।
এই পদক্ষেপ মূলত প্রতীকী হলেও হাউস ও সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিরতি শেষে ফিরেই তাঁরা আবার যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত ভোটের উদ্যোগ নেবেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির ঘোষণা দেন। হরমুজ প্রণালী পুনরায় না খুললে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা আসে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের মন্তব্য যে, ‘একটি গোটা সভ্যতা মরে যাবে’—এই হুমকি তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ডজনখানেক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ট্রাম্পকে পদ থেকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।
ক্যাপিটলের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকবস বলেন, ‘গণহত্যার হুমকি কোনো আলোচনার কৌশল হতে পারে না।’
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেনাপতি হিসেবে সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে এবং ট্রাম্পের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনসম্মত। তবে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা তাঁর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ক্ষমতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনছেন। ফেডারেল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি পণ্যে শুল্ক আরোপ, সামরিক অভিযান পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই তিনি কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে চলছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
তবে এত দিন অভিশংসনের প্রশ্নে মুখ খুলতে রাজি ছিলেন না বেশিরভাগ ডেমোক্র্যাট। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দু’দুবার অভিশংসন হলেও সিনেটে রিপাবলিকানরা তাঁকে বারবার দায়মুক্ত করেছে। কিন্তু এবার ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকির পর সেই দ্বিধা কাটতে শুরু করেছে।
পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মাদেলিন ডিন বলেন, ‘অভিশংসন হলো একজন নীতিহীন ও বেপরোয়া প্রেসিডেন্টকে লাগাম পরানোর সাংবিধানিক হাতিয়ার।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইতিমধ্যেই অভিশংসনযোগ্য একাধিক অপরাধ করেছেন। নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।
ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় মার্কিন পেট্রোল পাম্পে দাম বেড়ে গেছে, কৃষিপণ্য ও সারের মূল্যেও চাপ পড়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এই সংকটকে জনজীবনের সাশ্রয়ের প্রশ্নের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছেন।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ বলেন, ‘একদিকে আমরা লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করছি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে, আর অন্যদিকে ভার্জিনিয়ায় ৩৩ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারিয়েছেন।’ ‘ওবামাকেয়ার’-এর ভর্তুকি নবায়ন না করার কারণে বহু নিম্ন আয়ের মার্কিন নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার বাইরে পড়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে স্বল্পমেয়াদি অভিযান বা তাৎক্ষণিক হুমকির ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা শিথিল। রিপাবলিকানরা সিনেট ও হাউস—উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং প্রায় একাট্টাভাবে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন।