ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে জয়ের খোঁজে চীনের পথে ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে জয়ের খোঁজে চীনের পথে ট্রাম্প

রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন — তবে এক বছর আগের সেই দাপুটে অবস্থান আর নেই। আদালতের রায়, ইরান যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা আর চীনের কৌশলী চাপের মুখে তাঁর লক্ষ্য এখন অনেকটাই সীমিত।

আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। দুই নেতার শেষ বৈঠক হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে, যেখানে ট্রাম্প চীনা পণ্যের উপর তিন অঙ্কের শুল্ক স্থগিত করেছিলেন এবং শি বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধের হুমকি থেকে সরে আসেন।

এবারের বৈঠক হবে অনেক বড় পরিসরে — গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শীর্ষ বৈঠক, ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন, রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং চা পানের আসর। কিন্তু বাইরের জৌলুশের আড়ালে বাস্তবতা ভিন্ন।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলেহান্দ্রো রেয়েস বলছেন, “ট্রাম্পের চীনকে এখন যতটা দরকার, চীনের ট্রাম্পকে ততটা দরকার নেই।”

কারণগুলো স্পষ্ট —

ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করা এই যুদ্ধে ৬০ শতাংশেরও বেশি আমেরিকান বিরোধী। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্য বড় বোঝা।

শুল্কনীতিতে আদালতের বাধা: উচ্চ শুল্ক আরোপের স্বপ্ন আদালতের রায়ে ধাক্কা খেয়েছে।

চীনের পাল্টা কৌশল: বেইজিং ইতোমধ্যে সাপ্লাই চেইন সরিয়ে নেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি দেওয়ার আইন পাস করেছে এবং বিরল খনিজের লাইসেন্স ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য তিনটি —

১. বাণিজ্য চুক্তি: সয়াবিন, গরুর মাংস ও বোয়িং বিমান বিক্রির মতো সীমিত কিছু চুক্তি।

২. ইরান সমস্যায় চীনের মধ্যস্থতা: তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় চীন যেন ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতায় ভূমিকা রাখে।

৩. বাণিজ্যযুদ্ধের যুদ্ধবিরতি বহাল রাখা: এমনকি শুধু এটুকুই যদি হয়, তাও ট্রাম্প একটি “জয়” হিসেবে দাবি করতে পারবেন।

শি জিনপিংয়ের এজেন্ডায় রয়েছে —তাইওয়ান ইস্যুতে ছাড়: যুক্তরাষ্ট্র যেন তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে কোনো পদক্ষেপ না নেয়।

প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার: চিপ তৈরির সরঞ্জাম ও উন্নত মেমোরি চিপের উপর মার্কিন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। ভবিষ্যতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্ক সিএসআইএসের স্কট কেনেডি বলছেন, এই বৈঠকের ফলাফল হতে পারে “একটি উপরিভাগের যুদ্ধবিরতি, যা মূলত চীনের জন্যই সুবিধাজনক।”

উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে ৫৩ শতাংশ আমেরিকান এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার পক্ষে — যা ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ।

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন টেসলার ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের টিম কুকসহ একাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা। তবে ২০১৭ সালের বেইজিং সফরের তুলনায় এবারের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলটি আকারে ছোট।