গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐতিহাসিক সফরে চীনে গেছেন। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’–তে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিদলের মাঝখানে বিছানো লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মার্কিন জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার স্প্যাঙ্গলড ব্যানার’ এবং ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় শি জিনপিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে স্যালুট দেন ট্রাম্প। এরপর বাজানো হয় চীনের জাতীয় সংগীত।
বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এর সামনে ট্রাম্প তার বিশেষ গাড়ি ‘দ্য বিস্ট’ থেকে নামার পর শি জিনপিং তাকে অভিবাদন জানান। এ সময় তিয়েনআনমেন স্কয়ারজুড়ে চীনা সামরিক ব্যান্ডের সুরে মার্কিন জাতীয় সংগীতের সুর প্রতিধ্বনিত হয়।
সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে চীনা সেনারা বিপ্লবী সংগীতের তালে তালে ‘গুজ-স্টেপ’ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। এ সময় হাতে দুই দেশের পতাকা নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা। দুই দেশের শীর্ষ নেতা তখন শিশুদের এই অভিবাদন উপভোগ করেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যান এবং তাদের পূর্বনির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রথম পর্বে অংশ নেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমানে বিশ্বে গত এক শতাব্দীর মধ্যে না দেখা পরিবর্তনগুলো দ্রুততর হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন অস্থির ও উত্তাল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি ‘থুসিডাইডেস ট্র্যাপ’ কাটিয়ে সম্পর্কের একটি নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা দিতে পারব? আমাদের দুই দেশের জনগণের স্বার্থে এবং মানবতার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা কি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারি?’
শি জিনপিং মনে করেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া দুই দেশের নেতার জন্যই বড় দায়িত্ব। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণকে অভিনন্দন জানান।
দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শি বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে আমাদের দুই দেশের মধ্যে মতভেদের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থই বেশি। একজনের সাফল্য অন্যের জন্য সুযোগ বয়ে আনে এবং একটি স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক। পারস্পরিক সহযোগিতা থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ই লাভবান হতে পারে এবং দ্বন্দ্বে জড়ালে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী হওয়া উচিত। আমাদের উচিত একে অপরের সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং নতুন এই যুগে বৃহৎ দেশগুলোর একে অপরের সাথে মিলেমিশে চলার সঠিক পথটি খুঁজে বের করা।’
সবশেষে শি জিনপিং ট্রাম্পের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি আপনার সাথে মিলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই বিশাল জাহাজটিকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে চাই, যাতে ২০২৬ সালটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।’
উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আজকের এই সাক্ষাৎকে ‘সম্মানের বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। যখনই কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে, আমরা তা সমাধান করেছি। আমি আপনাকে কল করতাম এবং আপনিও আমাকে কল করতেন। মানুষ জানে না, আমাদের কোনো সমস্যা হলে তা আমরা কত দ্রুত সমাধান করতাম।’
শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবার কাছেই বলি, আপনি একজন মহান নেতা।’
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি এই সফরে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ী নেতাদের তার সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আজ এখানে কেবল শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাই উপস্থিত রয়েছেন।’
অনেকে এই বৈঠককে এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে বড় সম্মেলন’ হিসেবে অভিহিত করছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার সঙ্গে থাকতে পারা এবং আপনার বন্ধু হওয়া আমার জন্য সম্মানের।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ভালো হবে।