গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬৪ জন নিহত ও ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) পূর্বাভাসমূলক মডেল বলছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭.২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরেই ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ও শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস এই জোড়া ভূমিকম্পকে ‘ডাবলেট’ বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে, ১৯০০ সালের পর থেকে এটিই ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটিকে দুর্যোগ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুধু লা গুয়াইরায়ই ১০০-রও বেশি ভবন ধসে পড়েছে।
রাজধানী কারাকাসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন মেয়র কারমেন মেলেন্দেজ।
ভেনেজুয়েলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বাস করেন এবং দেশটির বহু বাড়িঘর শক্তিশালী ভূমিকম্প সহ্য করার উপযোগী করে নির্মিত নয়।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ভূপদার্থবিদ ভাশান রাইট জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের মাঝে একটি বৃহৎ স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট জোনে অবস্থিত। এ ছাড়া কারাকাস একটি গভীর পলল অববাহিকায় থাকায় ভূকম্পন তরঙ্গ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। কারাকাসের বিমানবন্দর বন্ধ ও ট্রেন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই এলাকায় ৬ মাত্রার বা তার বেশি শক্তিশালী আরেকটি ভূমিকম্পের ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউএসজিএস।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে উদ্ধার দল, চিকিৎসা সহায়তা ও মানবিক সাহায্য পাঠাচ্ছে।
কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, ডমিনিকান রিপাবলিক, ব্রাজিল, চিলি ও এল সালভাদরও উদ্ধার অভিযান এবং চিকিৎসা কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট।
বুধবার ভেনেজুয়েলায় জাতীয় ছুটির দিন ছিল — ১৮২১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের এক ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্মরণে। ফলে ভূমিকম্পের সময় বেশির ভাগ মানুষ বাড়িতেই ছিলেন।
ভূমিকম্পের ভয়ে হাজার হাজার কারাকাসবাসী রাতভর ঘরের বাইরে বা গাড়িতে কাটিয়েছেন। লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া তিনটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।