গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক
চলমান বিশ্বকাপে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর আরোপিত স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা বহাল না রাখার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা বলেছে, এই পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব, বোধগম্যতাহীন এবং অমার্জনীয়’। উয়েফার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ফুটবলের সততা ও মর্যাদা এখন ঝুঁকির মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের তারকা স্ট্রাইকার বালোগানকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ১৬-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের আয়োজক ফিফা স্বাগতিক দেশের শীর্ষ গোলদাতার ওপর এই তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে বালোগানের আর কোনো বাধা রইল না।
উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন কার্যকরভাবে একটি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার মাধ্যমে ফিফা ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১৮৮টি লাল কার্ডের ঘটনার মধ্যে এর আগে মাত্র একজন খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের গারিঞ্চার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল, তবে সেটি ছিল স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা প্রথা চালু হওয়ার আগের ঘটনা এবং সেই সিদ্ধান্তটিও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে ঘেরা ছিল।
বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেন। এরপরই ফিফা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি বিবৃতিতে ‘এক বিশাল অন্যায় সংশোধন করার জন্য’ ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।
ফিফার এমন সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। সোমবার বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যদি একটি ফোন কলই এই বোধগম্যতাহীন সিদ্ধান্তের কারণ হয়, তবে এটি ফুটবল এবং খেলাধুলার সবচেয়ে মৌলিক নিয়মের চরম লঙ্ঘন।’
ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটারও এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘ফুটবল কখনোই রাজনৈতিক ক্ষমতার খেলার মাঠ হওয়া উচিত নয়।’
উয়েফা তাদের কড়া বিবৃতিতে আরও বলেছে, এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি ফুটবলের নীতিমালার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংস্থাটি জানায়, ‘যখন নিয়মের রক্ষকরাই নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তখন খেলার সততা বিপন্ন হয় এবং একটি প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। এই সিদ্ধান্ত বর্তমান টুর্নামেন্টে একটি খারাপ নজির তৈরি করল, যেখানে একই পরিস্থিতির শিকার অন্যান্য খেলোয়াড়রাও এখন সমান সুযোগ দাবি করবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রীড়া বিষয়ক কমিশনার গ্লেন মিকেলেফ উয়েফার সুরেই কথা বলেছেন। তিনি এক পোস্টে জানান, খেলাধুলার সিদ্ধান্ত ক্রীড়া সংস্থারই নেওয়া উচিত, রাজনীতিবিদদের নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খেলাধুলাকে ব্যবহার করা স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কিছু বিষয়ে উয়েফা ও ফিফার মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ওমর আরতান নামক একজন রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য প্রবেশাধিকার না দেওয়ায় উয়েফা তাকে আগামী ১২ আগস্ট পিএসজি বনাম অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার সুপার কাপ ম্যাচ পরিচালনার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বালোগান ইস্যুতে ফিফার এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, যা মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতিকেই বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে।