খাগড়াছড়িতে গুলিতে তিন তরুণের মৃত্যু: মরদেহ পড়ে আছে মর্গে

খাগড়াছড়িতে গুলিতে তিন তরুণের মৃত্যু: মরদেহ পড়ে আছে মর্গে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিতে নিহত তিন তরুণের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও স্বজনেরা না আসায় তা হস্তান্তর করতে পারেনি পুলিশ।

মরদেহগুলো খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। ঘটনার একদিন পার হলেও থানায় এখনো মামলা হয়নি।

সোমবার দুপুরে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিন তরুণ—পদ্ম চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) ও রিয়েল চাকমা (১৮)। 

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, পানছড়ির লোগাং এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে সদরে যাওয়ার পথে মধুমঙ্গলপাড়ায় তাঁদের নামিয়ে গুলি করে হত্যা করেন অস্ত্রধারীরা। নিহত পদ্ম ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটিতে, আর রিয়েল চাকমার বাড়ি পানছড়িতেই।

ঘটনার পরপরই পুলিশ জানিয়েছিল, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে সংঘর্ষে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশের ভাষ্য পাল্টায়—তারা জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধের জেরেই অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তিন তরুণকে গুলি করা হয়েছে। এদিকে জেএসএস ও ইউপিডিএফ দুটি সংগঠনই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, নিহত তরুণ বা হামলাকারী কেউই তাদের সংগঠনের সদস্য নন।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহের পাশাপাশি লক্ষ্যভ্রষ্ট দুটি গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং চারটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, নিহতদের পরিবারের কেউ এখনো মরদেহ নিতে হাসপাতাল বা থানায় আসেননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্বজনদের বিষয়টি জানানো হলেও সাড়া মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলে তারা বাদী হয়ে মামলা করবে।