গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নতুন করে হামলা পাল্টা হামলা পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা শেষ।’
ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ‘অশুভ মানুষদের’ শাসন বলে বর্ণনা করেন এবং প্রশাসনকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, তারা নিকৃষ্ট। এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক… এরা ক্যান্সারের মতো এবং আপনারা জানেন আপনাদের কী করতে হবে — শুরুতেই ক্যান্সারকে ছেঁটে ফেলতে হবে।’
ইরানি আলোচকদের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা সময় নষ্ট করছে। সত্যি বলতে, আমি তাদের পেছনে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়, তারা মিথ্যাবাদী।’
তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন কোনো অবস্থাতেই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।
এরআগে হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরানে নতুন করে আবারও হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস বন্দর, কেশম দ্বীপসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্পের এই ঘোষণা এলো। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই সমঝোতার পর এখন ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। এতে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান।
এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ও ব্যাপক সংঘাত ও ইরান ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই একতরফা যুদ্ধবিরতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে একটি ‘বিপজ্জনক ও অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। ফলে এই মুহূর্তে বড় কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খুবই কম, যা বিশ্বকে একটি বড় অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি