আগামী পাঁচ বছরে চাঁদ ও মঙ্গলে ‘হাজার হাজার’ মানুষ পাঠাবে স্পেসএক্স: ইলন মাস্ক

আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে একজন নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্যও চাঁদ ও মঙ্গল ভ্রমণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আগামী পাঁচ বছরে চাঁদ ও মঙ্গলে ‘হাজার হাজার’ মানুষ পাঠাবে স্পেসএক্স: ইলন মাস্ক

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চাঁদ ও মঙ্গলে ‘হাজার হাজার’ মানুষ পাঠানো এবং দশ বছরের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক জানান, আগামী ১০ বছরের মধ্যে চাঁদে অন্তত দশ হাজার মানুষ পাঠাতে চায় স্পেসএক্স। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, লক্ষ্যটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী—কারণ এ পর্যন্ত মাত্র ডজনখানেক মানুষ চাঁদে গেছেন।

মাস্কের ভাষ্যমতে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে একজন নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্যও চাঁদ ও মঙ্গল ভ্রমণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘমেয়াদে চাঁদে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে স্পেসএক্স, যেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে এবং পর্যটক হিসেবেও যেতে পারবে।

মঙ্গলে মানুষ পাঠানো তুলনামূলক বেশি কঠিন হবে বলে স্বীকার করেন মাস্ক। তবু আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম মানুষ এবং ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে হাজারো মানুষ মঙ্গলে পাঠানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া আগামী বছর মহাকাশে প্রথম ‘এআই স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের এবং পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে বড় পরিসরে এ ধরনের স্যাটেলাইট মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মাস্কের এই ঘোষণা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে, কারণ অতীতে চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর একাধিক সময়সীমা তিনি ঘোষণা করলেও তার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১১ সাল থেকে অন্তত ১৯ বার তিনি আগামী ১০ বছরের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর দাবি করেছিলেন। ২০১৭ সালে ২০১৮ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর যে পরিকল্পনা তিনি ঘোষণা করেছিলেন, তাও বাস্তবে রূপ নেয়নি।

স্পেসএক্সের নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে এবং মঙ্গলে অন্তত ১০ লাখ মানুষের একটি উপনিবেশ গড়ে উঠলে মাস্ক অতিরিক্ত ১০০ কোটি স্পেসএক্স শেয়ার পাবেন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মঙ্গলে উপনিবেশ পরিচালনার বিপুল ব্যয় কোম্পানির সম্ভাব্য মুনাফায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৩৪ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর তিনি সাময়িকভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তার সম্পদের পরিমাণ আবার ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।