গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ ঘটেছে। জবাবে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের কয়েক ডজনের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা—যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং আইআরজিসির স্পিডবোট। এই প্রথমবারের মতো হামলায় যুদ্ধবিমান, নৌযান ও দুই ধরনের ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
সেন্টকম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতেই স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় নতুন এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ হামলার নির্দেশ দেন বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আইআরজিসি টেলিগ্রামে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে ঘাঁটির জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ মজুতের স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা, একটি পি-৮ বিমান হ্যাঙার ও ড্রোন কমান্ড সেন্টারেও হামলার দাবি করেছে তারা।
কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির এফপিএস রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবিও করেছে আইআরজিসি। বাহরাইনে এরপর সাইরেন বেজে ওঠে এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
আইআরজিসির দাবি, ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় দুটি জাহাজকে তাদের নৌবাহিনী থামানোর পরই মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা শুরু করে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স পাল্টা দাবি করেছেন, আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ফের গুলি চালিয়েছে, তবে মার্কিন যুদ্ধবিমান একটি ইরানি ক্রুজ মিসাইল ও একটি ড্রোন ধ্বংস করে।
একদিন আগে ইরানজুড়ে অন্তত ১৪০টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও জর্ডানে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এলো নতুন এই হামলা।
রোববার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক, কেশম, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এতে কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হননি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।
নতুন হামলায় লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বেড়েছে—খুজেস্তান, হরমোজগান ও সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের একাধিক শহরকে টার্গেট করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আধিপত্য বজায় রাখার কৌশলগত গুরুত্বের কারণে জাস্ক, সিরিক, কেশম ও বন্দর আব্বাসে ইরানের একাধিক রাডার স্টেশন ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
খুজেস্তানের ওমিদিয়ে, মাশহর, বেহবাহান, দেজফুল ও আহভাজের সীমান্ত এলাকা এবং সিস্তান-বেলুচিস্তানের চাবাহার বন্দর এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলাটি হয়েছে মারকাজি প্রদেশের খোন্দাব শহরের উপকণ্ঠে, যেখানে ইরানের অতি স্পর্শকাতর ভারী পানির স্থাপনা অবস্থিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, খুজেস্তানের মাশহরে একটি কৃষি সেচ পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত ও চারজন আহত হন। খুজেস্তানের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি জানান, আজ ভোরের দিকে এই হামলা হয় এবং নিহত ব্যক্তি ওই সেচ কেন্দ্রের পাহারাদার ছিলেন।