ভারতের দুই রাজ্যে ভ্রমণ বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার কিছু বাংলাভাষী উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশিদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে, যা ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

ভারতের দুই রাজ্যে ভ্রমণ বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই দুই ভারতীয় রাজ্যে ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হোক।

সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর।

চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি ভারতে যাতায়াত করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার কিছু বাংলাভাষী উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশিদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে, যা ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

আইনজীবী মামুনের ভাষ্যে, এমন হুমকির মুখে বাংলাদেশিরা হেনস্তা বা সহিংসতার শিকার হতে পারেন। অতীতে ভারতে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর এ কারণেই বিদেশে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেখভাল করাকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নোটিশে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক কর্তব্য। এ যুক্তিতে বলা হয়েছে, ঝুঁকি জেনেও নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রের এই দায়িত্বের পরিপন্থী।

নোটিশে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে —পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাসংলগ্ন সব স্থলবন্দরে বাংলাদেশিদের জন্য ইমিগ্রেশন কার্যক্রম অবিলম্বে সাময়িক স্থগিত করা এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কূটনৈতিক নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত ওই দুই রাজ্যগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরভিত্তিক ইমিগ্রেশনও বন্ধ রাখা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে নোটিশদাতাকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সাড়া না পেলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনের কথাও জানিয়ে রেখেছেন আইনজীবী মামুন।