কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ সরানোর উদ্যোগ, বিতর্ক

কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ সরানোর উদ্যোগ, বিতর্ক

বিবিসি 

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মসজিদটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বাঁকরা মসজিদ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি গৌরীপুর জামা মসজিদ নামেও পরিচিত। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ৫০ থেকে ৬০ জন মুসল্লি এখানে সমবেত হতেন। ১৯৫০ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সময় আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হলেও মসজিদটি অক্ষত ছিল।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, রাস্তা মেরামতের জন্যই সাময়িকভাবে যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যুরো অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের (বিসিএএস) নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া এই উদ্যোগ নেয় বলে জানা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ধর্ম পালনে কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, তবে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে এভাবে মসজিদ চালু রাখা সম্ভব নয়। অন্যদিকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তিনি সরকারি জমিতে কোনো মসজিদ থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন।

সমালোচকদের দাবি, মসজিদটির ইতিহাস সম্প্রসারিত বিমানবন্দরের চেয়েও পুরোনো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে এখানে নামাজ আদায় হয়ে আসছে। এক বাসিন্দা জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে মাঝেমধ্যে সাময়িক বন্ধ থাকলেও এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের এক সাবেক কর্মকর্তা জানান, নব্বইয়ের দশক থেকেই ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মসজিদ অপসারণের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজ্যসভায় সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য বিষয়টি উত্থাপন করলে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী জানান, মসজিদটি রানওয়ে থেকে ৮৮ মিটার দূরে অবস্থিত।

সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিপরীতে বিজেপি নেতারা এই পদক্ষেপকে উন্নয়ন ও যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি বলে অভিহিত করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য বাবুল সুপ্রিয় বলেন, বিমানবন্দরের ভেতরে যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্তের এখতিয়ার একমাত্র এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার।