গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পৌরসভার উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকায় বাইপাস-সংলগ্ন পেট্রল পাম্পের আশপাশের কৃষিজমিতে অবৈধভাবে চলা বালু ভরাট কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে মোবাইল কোর্টে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা এই অভিযান পরিচালনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে পৌরসভার উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকার কৃষিজমিতে বালু ভরাট করছিল স্থানীয় একটি অসাধু চক্র। বিষয়টি নজরে এলে রবিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ঘটনার সত্যতা পেয়ে অনুমতি ছাড়া কৃষিজমিতে বালু ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বালু ভরাট কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে ব্যবহৃত ড্রেজার ও পাইপসহ সব সরঞ্জাম দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন বালু ভরাটে যুক্ত ড্রেজারের প্রতিনিধি, ঘোনপাড়া এলাকার মৃত করিম মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (৩৫)।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৫ জুলাই) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই বালু ভরাট কার্যক্রম প্রায় চার দিন চলার পর আজ বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এর আগে প্রকাশ্যে অনুমোদনহীনভাবে কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছিল। এই কাজের জন্য প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে পাইপ বসানো হয়, যা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বালু ভরাটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ জুন কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে এই পাইপ বসানো হয়েছিল। কোনো দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই বসানো এই পাইপ প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও এত দিন তা অপসারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।
প্রকাশ্য এই অনিয়ম, দীর্ঘদিনের সড়ক-প্রতিবন্ধকতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ মিলিয়ে ঘটনাটি কালীগঞ্জ পৌরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
আজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রশাসন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ও কঠোরতার প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বালু ভরাট বন্ধের পাশাপাশি পাইপ সরানোর নির্দেশ দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অবৈধ বালু ভরাটে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের কোনো সম্মতি নেই। বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বালু ভরাটের জন্য তদবির করলেও তিনি তা নাকচ করে দিয়েছেন বলে নিজেই আগে নিশ্চিত করেছিলেন।
আরো জানতে…..
কালীগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বালু ভরাট, নীরব কর্তৃপক্ষ