আগামী বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে হবে: কনমেবল সভাপতি

২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। তবে শতবর্ষ উদযাপনের জন্য তিনটি ম্যাচ খেলা হবে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে।

আগামী বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে হবে: কনমেবল সভাপতি

গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সন্থা কনমেবল-এর সভাপতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ‘৬৪ দলের টুর্নামেন্ট’ হবে।

একইসঙ্গে ফিফার সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেজ এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন: ‘২০৩০ সালে বিশ্বকাপ ফিরছে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ফুটবলের জন্য এটা এক দারুণ সুযোগ। ৬৪ দলের এক টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন করব।’

পৃথক একটি পোস্টে দোমিঙ্গেজ লিখেছেন: ‘বিশ্বকাপের শতবর্ষের প্রতি জানাতে ২০৩০ সালে যাতে ৬৪টি দেশ অংশ নিতে পারে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। তবে শতবর্ষ উদযাপনের জন্য তিনটি ম্যাচ খেলা হবে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে।

ফিফার পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে গত ১২ জুলাই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছিলেন, ২০২৬-এর আসর শেষ হলেই বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

৬৪ দলের টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে সুইস ব্রডকাস্টার ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবেই যাচাই ও আলোচনা হবে।

‘আপনি যখন একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করবেন, তখন সেটা সমগ্র বিশ্বের জন্যই হওয়া উচিত। শুধু ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকা নয়, আক্ষরিক অর্থেই গোটা বিশ্ব। প্রতিটি দেশেরই থাকা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার অধিকার উচিত।’

ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি দলগুলোর মান এখন অত্যন্ত উন্নত, আর বিশ্বজুড়েই এই মান ক্রমশ বাড়ছে। আপনি যদি ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেন, তাহলে তারা নিজেদের উন্নত করার তাগিদ হারিয়ে ফেলবে।’

এদিকে দোমিঙ্গেজ মঙ্গলবার স্কাই নিউজকে বলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ যেহেতু টুর্নামেন্টের শততম বার্ষিকী, তাই ‘এই উৎসব হতে হবে একেবারেই অন্যরকম উৎসব’ এবং তাতে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বেশি দেশকে সুযোগ দিতে হবে। আমার মনে হয়, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ শতভাগ সফল হয়েছে।

‘দক্ষিণ আমেরিকায় আরও বেশি ম্যাচ হতে পারে কি না? আমি নিশ্চিতভাবেই তেমনটা আশা করি।’

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নিয়েছে। এর আগের সাত আসরেই বিশ্বকাপ ছিল ৩২ দলের লড়াই। 

গত সপ্তাহে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেন, দল বাড়ানোর এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হবে।

যদি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ মাঠে গড়ায়, তবে মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৮-এ—১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত খেলা ৩২ দলের টুর্নামেন্টের দ্বিগুণ। চলতি বছরের টুর্নামেন্টে ১০৪টি ম্যাচ খেলা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২০৩০ বিশ্বকাপের কলেবর বাড়ানো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল ফিফা। টুর্নামেন্টের শততম বার্ষিকীকে সামনে রেখে দোমিঙ্গেজসহ দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী ফুটবল কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পর এ আলোচনা হয়েছিল। 

ফুটবল বিশ্বকাপের বাজার ও পরিসর যেভাবে বড় হয়েছে, আর কোনো ক্রীড়া আসরের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি অলিম্পিক গেমসও এখন ফুটবল বিশ্বকাপের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে।