গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার (২৫ অগাস্ট) সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করতে ভিসা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এসব কারণের মধ্যে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়াও রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়াতেই এ কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেন, যার আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
সর্বশেষ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বিষয়বস্তু বা এর সময়সীমা জানায়নি।
তবে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের ‘সামগ্রিকভাবে এবং ধারাবাহিক’ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের খবর প্রথম প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারিত থাকা অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা ই-মেইল পেয়েছেন। সেখানে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এসব সংগঠনের অভিযোগ, এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থি।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পুলিশের বা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নজরদারি ও হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করে ফেলা হয়েছে।