নিজস্ব সংবাদদাতা
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)। মৃত্যুর আগমুহূর্তে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাঁচার আকুতি জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, “আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা জেলার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহত আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পেশায় তিনি একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার ছিলেন (পাসপোর্ট নাম্বার A14584713)।
গত জুন মাসে ভাগ্য ফেরাতে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। দেশটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র দুই দিন আগে তিনি কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) পেয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল আনতে ইউসুফ গ্যারেজে যান। সে সময় হঠাৎ একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়ে গ্যারেজে আগুন ধরে যায়। এতে ইউসুফসহ তাঁর দুই সহকর্মী দগ্ধ হন।
খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করেন এবং নতুন করে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলগুলো বাইরে সরিয়ে নেন।
ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। দগ্ধ অপর দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একইসঙ্গে কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়েছে।
বার্সেলোনা প্রবাসী শফিকুল ইসলাম রাসেল, যিনি নিহত ইউসুফের মামাতো ভাই, এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।