গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
মহানগরের টঙ্গীতে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর সোসাইটি মাঠে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম, বয়স ৪০ বছর। তার বাড়ি শ্রীপুর থানার টেপিরবাড়ি এলাকায়। তিনি মৃত নজরুল ইসলামের সন্তান এবং বহু বছর ধরে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুরে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গোপালপুর, মরকুন ও পাগাড়—এই তিন এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েকজনের সঙ্গে নুরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল।
তাদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে মরকুন ও পাগাড় এলাকার পরিচিত কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জন মিলে নুরুল ইসলামকে তাঁর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান গোপালপুর সোসাইটি মাঠে। সেখানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা তাঁর পায়ের রগ কেটে দিয়েছিল বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর জখম অবস্থায় নুরুল ইসলামকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়েছিল, উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে বাসার সামনে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই বিষয়টি পুলিশকে জানান।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আলমকে বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর যে অটোরিকশাচালক নুরুল ইসলামকে বহন করেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি মাকসুদ আলমের ভাষ্য, তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।