গাকৃবি বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে চ্যাম্পিয়ন

গাকৃবি তাদের উদ্ভাবিত ৯৭টি জাত ও ২০টির বেশি প্রযুক্তি থেকে বাছাই করা শীর্ষ ১২টি জাত ও প্রযুক্তি উপস্থাপন করে।

গাকৃবি বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে চ্যাম্পিয়ন

হাসমত আলী, বিশেষ প্রতিনিধি 

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলা গত ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে গাকৃবিকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

এই স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন গাকৃবির উপাচার্যের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

গাকৃবির জনসংযোগ বিভাগের সেকশন অফিসার রনি ইসলাম জানান, ‘Innovate To Market’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মেলায় দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয় এবং প্রায় এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এর মধ্যে গাকৃবি তাদের উদ্ভাবিত ৯৭টি জাত ও ২০টির বেশি প্রযুক্তি থেকে বাছাই করা শীর্ষ ১২টি জাত ও প্রযুক্তি উপস্থাপন করে।

তিনি বলেন, কৃষি, গবেষণা ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব উদ্ভাবনের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা, সৃজনশীলতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দর্শনার্থী, শিল্প উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়নে গাকৃবির প্রযুক্তিগুলোকে অধিক সম্ভাবনাময় ও জনকল্যাণমুখী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই অসাধারণ অর্জনের কৃতিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গবেষণাগার ও মাঠপর্যায়ের সব কর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, গাকৃবির উদ্ভাবনগুলো দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং খাদ্য ও কৃষি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর অবদান রাখবে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও জানান, এই মেলার অন্যতম লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা এবং গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে মানুষের জীবন ও অর্থনীতির কাজে লাগানো, যা দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরের অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই), কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংস ফর ইনোভেশন (ডব্লিউইউআরআই)—এসব আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আগে থেকেই জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান ও বৈশ্বিক পর্যায়ে গৌরবময় অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের এই স্বীকৃতি সেই ধারাবাহিকতাতেই যুক্ত হলো নতুন এক অর্জন।