সরকারি চাকরির বেতন বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো শতভাগ কার্যকর হবে।

সরকারি চাকরির বেতন বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগের জারি করা এ প্রজ্ঞাপন শনিবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। এর মধ্যে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন এবং ১০–২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০–২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন।

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। আর মূল বেতনের সঙ্গে যেসব ভাতা পেয়ে থাকেন সরকারি চাকুরেরা, সেসব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

গত ৩০ জুন তারা যে বেতন পেয়েছিলেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে বাড়তি প্রাপ্য হিসাব করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তার বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

৩১ অগাস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার। তাতে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।

আর নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা। বিসিএস দিয়ে যারা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তারা এ গ্রেডে বেতন পান।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থ্যাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার (নির্ধারিত) থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এ গ্রেডে বেতন পান।

সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোরও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বছর কয়েক ধরে আলোচনার পর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকুরেদের কাঙ্ক্ষিত এ জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করার পর এবার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তারও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা মিলল নতুন এ আদেশে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।

বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ বরাদ্দ করে যাওয়ার কথা তখন বলেছিলেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পে কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা তিনি সেসময় বলেছিলেন।

বিএনপি সরকার গঠন করার পর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দেয়। একই সঙ্গে আগের সরকারের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অর্থের সংস্থান না থাকায় এটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় নেয়।

এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাড়তি দামে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতেও সরকারের খরচ বাড়ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরুর আগ্রহের আলোচনার সময় তাদের তরফে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংকুলান নিয়ে প্রশ্ন এসেছিল।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও এসব বিবেচনায় সেই সুযোগ থাকছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় সরকারি চাকুরেদের জন্য নবম এ বেতন কাঠামো আলোর মুখ দেখল।