গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি (ক্লিন ইমেজ), জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ ও অবদান এবং বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা—এই চার মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করবে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে জুম (অনলাইন) বৈঠকের মাধ্যমে এসব নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি তদারকির জন্য ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। কমিটির সদস্যরা হলেন—দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাঈল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা। প্রয়োজনে এ কমিটির আকার বাড়ানো হতে পারে।
সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছে এই কমিটি। এসব বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সার্বিক অবস্থান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিটি। এ সময় তৃণমূল নেতাদের মতামত নেওয়া হয়। শিগগিরই অন্য বিভাগগুলোর নেতাদের সঙ্গেও একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকগুলোতে প্রার্থীর নাম সুপারিশ করার আগে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় নেতাদের। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তুতকৃত তালিকা জেলা নেতাদের কাছে পাঠানো হবে।
তালিকায় কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিভাগীয় টিম তা পর্যালোচনা করবে। বিভাগীয় পর্যায়ে সমস্যার সমাধান না হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তা নিষ্পত্তি করা হবে।
বিএনপি মনে করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম ও ভুলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে প্রার্থীদের সম্পৃক্ততা, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের নেতাকর্মীদের সমর্থনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে তৃণমূলের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
একই এলাকা থেকে যাতে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, সে বিষয়েও স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত বলে বিবেচিত ব্যক্তিদেরই সমর্থন দেবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিকল্প প্রার্থী রাখা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কৌশল।
তিনি বলেন, ‘কোনো কারণে নির্বাচন কমিশন কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করলে বিকল্প প্রার্থী প্রয়োজন হবে।’
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে জুম বৈঠকের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত সংগ্রহ করে জেলা কার্যালয়ে গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনার পর আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী বছরের শুরুর দিকে এই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় সরকার।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করে পরীক্ষা শেষে জানুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং তা চলবে ৬ জুন পর্যন্ত।
তিনি জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা প্রয়োজন হবে।
সূত্র: টিবিএস