সেভেন আপের মান নিয়ে প্রশ্ন, ট্রান্সকমের এমডি সিমিনের বিরুদ্ধে মামলা

সেভেন আপের মান নিয়ে প্রশ্ন, ট্রান্সকমের এমডি সিমিনের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

কোমল পানীয় সেভেন আপের রাসায়নিক পরীক্ষায় নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়ার অভিযোগে ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

আগামী ১৬ নভেম্বর আদালতে হাজিরার দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলাটি করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হাসান।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ১৪ অক্টোবর সেভেন আপ মানসম্পন্ন না হওয়ায় ট্রান্সকম বেভারেজেসের এমডি সিমিন রহমানের নামে তিনি মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ব্রাদার্স কম্পিউটার অ্যান্ড কনফেকশনারি থেকে সেভেন আপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজের একটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াস জাহেদী পরীক্ষার প্রতিবেদন দেন। ল্যাব পরীক্ষায় ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে ব্যত্যয় পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ সংযোজন দ্রব্য রাসায়নিক কেমিক্যাল অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ এবং সরবরাহ এবং বিক্রয়, মোড়কাবন্ধ খাদ্য লেভেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭ এর সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

সেভেনআপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজের গায়ে লেখা রয়েছে যে, চিনি নেই কিন্তু নন-নিউট্রিটিড সুইটনার আছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর জব্দকৃত ২৫০এমএল সেভেনআপ ন্যাচারাল ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজের গায়ে লেখাগুলো খালি চোখে দেখা যায়না এবং সহজে দৃশ্যমান, সহজপাঠ্য নয়। এছাড়া ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি লিটারে এসিসালফেম পটাশিয়ামের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রাম হলেও নমুনায় পাওয়া গেছে ৪৫০ মিলিগ্রাম। একইভাবে আসপারটেইমের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাত্রা ৭০০ মিলিগ্রামের বিপরীতে পাওয়া গেছে ১ হাজার মিলিগ্রাম।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৫০ মিলিলিটারের বোতলের গায়ে পণ্যের উপাদানসংক্রান্ত তথ্য সহজে দৃশ্যমান ও পাঠযোগ্য ছিল না। এ ধরনের ত্রুটি মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭-এর পরিপন্থি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেড বা অভিযুক্ত সিমিন রহমানের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।