গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা ‘স্টারশিল্ড’ সীমিত করার নির্দেশ এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তারা বলেছেন, পেন্টাগনের নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল যে ইউক্রেনের জন্য সেবাটির গতি কমাতে হবে। হোয়াইট হাউসের ঠিক কে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাঁরা জানাননি।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে জানান, দ্রুত চলমান যন্ত্রে বসানো স্টারলিংকের সামরিক রিসেপ্টর কাজ করছিল না। ফলে নিজেদের ড্রোনের দিকনির্দেশনা ব্যবস্থায় সমস্যা হয়।
তাঁদের ভাষ্য, রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকায় সেনা ও সরবরাহ লাইনে হামলার অভিযান এতে জটিল হয়েছে। রুশ শাহেদ ড্রোন ঠেকানোর ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের গতিও কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জানান, রিসেপ্টর এখন চলন্ত অবস্থায় কাজ করছে। তবে তা ঘণ্টায় ১০০ মাইল (১৬০ কিলোমিটার) পর্যন্ত গতির ক্ষেত্রে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন কোনো অনুরোধ কখনো করেননি। তবে প্রশাসনের অন্য কেউ করেছেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দেয়নি হোয়াইট হাউস।
স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক বুধবার এক্সে লিখেছেন, স্টারশিল্ড মার্কিন সরকারের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত। তাই এর গতি বা ব্যবহারে কোনো সীমা দেওয়া হলে তা ঠিক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী অথবা প্রেসিডেন্ট। স্পেসএক্স, পেন্টাগন ও ওয়াশিংটনে ইউক্রেনীয় দূতাবাস রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
ইউক্রেনীয় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গল ও বুধবার তাঁরা হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগনে যোগাযোগ করেন। তাঁদের বলা হয়েছে, এটি হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্ত।
এই পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভকে চাপ দিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলার কারণেই জ্বালানির দাম বাড়ছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, দাম বাড়ার মূল কারণ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ। এতে ইরান জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।
৯ অক্টোবর মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ইউরোপ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর থেকে কিয়েভ-ওয়াশিংটন সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। বৈঠকের ঘটনা জানেন, এমন আরেকজনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও দূত স্টিভ উইটকফ সেখানে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁরা বলেন, বারবার বলার পরও শোধনাগারে হামলা থামছে না বলে ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ।
একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির কথাও জানায়। এই চুক্তিতে রাশিয়া মার্কিন ও বৈশ্বিক বাজারে ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি ডিজেল দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের আশা, এতে শান্তি আলোচনায় মস্কো নমনীয় হবে। তবে মার্কিন কয়েকজন আইনপ্রণেতা সমালোচনা করে বলছেন, এতে রাশিয়া যুদ্ধের অর্থ পাবে, অথচ পুতিনকে কোনো ছাড় দিতে হবে না।
এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তিটিকে ‘দুর্বল’ সিদ্ধান্ত বলেন। জবাবে ট্রাম্প ইউক্রেনে নির্বাচনের দাবি তোলেন এবং জেলেনস্কিকে সরে যেতে বলেন।
রয়টার্স আগে জানিয়েছিল, মার্কিন কর্মকর্তারা রুশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, তথ্য আদান-প্রদান এখনো চলছে।
স্টারশিল্ড স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ, যা মূলত সরকার ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার জন্য। পেন্টাগন এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং স্টারলিংক-স্টারশিল্ডে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।
২০২৪ সালে রয়টার্স জানায়, পেন্টাগন স্টারশিল্ডের নিজস্ব স্যাটেলাইটও কিনেছে। এর মধ্যে আছে ক্ষেপণাস্ত্র-সতর্কতার যোগাযোগ স্যাটেলাইট এবং ন্যাশনাল রিকনেসান্স অফিসের জন্য একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট নক্ষত্রপুঞ্জ।