কালীগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় পুলিশের এসআই ও বিএনপি নেতার মৃত্যু, চালক ও সহকারী গ্রেপ্তার

কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় একটি মামলা করেন।

কালীগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় পুলিশের এসআই ও বিএনপি নেতার মৃত্যু, চালক ও সহকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা

কালীগঞ্জে একটি পিকআপের ধাক্কায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় গাড়ির চালক এবং তার সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

ঘটনার পাঁচ দিন পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) নরসিংদী ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযানে তারা ধরা পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজনের একজন পিকআপ চালক মাজহারুল ইসলাম (২৫)। তিনি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চারখালীর সৈয়দ গাজীর ছেলে। বুধবার রাতে তাকে পিরোজপুরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮।

অন্যজন চালকের সহকারী রাজু শেখ (২৯)। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা এলাকার লুৎফার রহমানের ছেলে তিনি। নরসিংদীর পলাশ থেকে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ।

নিহত এসআই মিজানুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম মোল্লা (ছবি আংশিক সম্পাদিত)।

নিহত এসআই মিজানুর রহমানের (৩০) বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ডিগ্রিরচর দক্ষিণপাড়ায়। তার বাবার নাম মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি তার বিয়ে হয়েছিল।

নিহত রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর ভোররাতে তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী অহিদ মিয়াসহ তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ। তাদের নিয়ে থানায় ফেরার পথে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লা পুলিশের গাড়ি থামিয়ে কথা বলছিলেন।

পুলিশের দেওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, রাত সাড়ে তিনটার দিকে টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালের দিকে যাওয়া একটি পিকআপ দ্রুতগতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ সদস্য ও রফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান থানার এসআই মিজানুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, পিকআপটি না থেমে পালাতে থাকলে অন্য পুলিশ সদস্যরা সেটিকে ধাওয়া করেন। সে সময় গাড়িটি তাদেরও ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন এসআই জাবেদ ওমর (২৮) ও পুলিশের গাড়ির চালক কনস্টেবল ফজলে রাব্বি (২৮)।

ঘটনার পর কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ২৬(১০)২৬।

পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে এবং প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। এর ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নরসিংদীর পলাশ থানার ডাঙ্গা এলাকায় কনফিডেন্স সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সামনে থেকে পিকআপটি (নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ম-১২-০৫৮২) জব্দ করা হয় এবং রাজু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি সূত্র জানায়, একইভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে চালকের অবস্থান শনাক্ত করে পিরোজপুরে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে মাজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চালকের সহকারীকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে, আর চালককে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।