নিজস্ব সংবাদদাতা
কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি কলেজে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ১১৬ জনের মধ্যে ফেল করেছে ৫১১ জন। ফেলের হার ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ। পাস করেছে ৬০৫ জন, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন।
প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ ধরে হিসাব করলে দেখা যায়, ব্যর্থতা সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। এর বড় অংশ একটি কলেজ ও দুটি বিভাগে কেন্দ্রীভূত। ফলের ব্যবধানও বিস্তর। এক কলেজে ফেল ১১ শতাংশ, আরেক কলেজে ৮০ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার পর তা বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার মোট পরীক্ষার্থীর ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের। মোট ফেলের ৬০ দশমিক ৯ শতাংশও এই কলেজের, অর্থাৎ ফেলের হার পরীক্ষার্থীর অনুপাতের চেয়ে বেশি। এই কলেজকে বাদ দিলে বাকি সাত প্রতিষ্ঠানে ৫৫৩ জনের মধ্যে ফেল ২০০ জন, হার ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ।
ফেলের ক্রমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল
কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী: ৫৬৩, পাস ২৫২, ফেল ৩১১ (৫৫ দশমিক ২ শতাংশ), জিপিএ-৫ নেই
উপজেলার সবচেয়ে বড় এই কলেজে ফেলের সংখ্যা অন্য সাত কলেজের মোট ফেলের (২০০) দেড় গুণের বেশি। তিন বিভাগের চিত্র:
মানবিক: ৩০৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস ১৩৩, ফেল ১৭৪ (৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ)। উপজেলার মানবিক বিভাগের মোট ফেলের ৫৬ শতাংশ এখানকার।
ব্যবসায় শিক্ষা: ১৮৯ জনের মধ্যে পাস ৭৮, ফেল ১১১ (৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ)। উপজেলার ব্যবসায় শিক্ষার মোট ফেলের ৬৮ শতাংশ এই কলেজের। এই কলেজের মধ্যে ফেলের হার সবচেয়ে বেশি এই বিভাগে।
বিজ্ঞান: ৬৭ জনের মধ্যে পাস ৪১, ফেল ২৬ (৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ)। তুলনামূলক ভালো হলেও প্রতি তিনজনে একজনের বেশি ফেল।
জামালপুর কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী : ৭৬, পাস ২১, ফেল ৫৫ (৭২ দশমিক ৪ শতাংশ), জিপিএ-৫ দুইজন
ফেলের হারে উপজেলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রতি চারজনে প্রায় তিনজন ফেল করেছে।
মানবিক: ৫৫ জনের মধ্যে পাস ১৩ (এর মধ্যে জিপিএ-৫ ১), ফেল ৪২ (৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ)।
ব্যবসায় শিক্ষা: ১৭ জনের মধ্যে পাস ৮ (এর মধ্যে জিপিএ-৫ ১), ফেল ৯ (৫২ দশমিক ৯ শতাংশ)।
বিজ্ঞান: ৪ জন পরীক্ষা দিয়েছে, চারজনই ফেল।
একই কলেজে দুটি জিপিএ-৫ এবং বিপুলসংখ্যক ফেলের পাশাপাশি অবস্থান লক্ষণীয়।
কালীগঞ্জ মহিলা কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী : ৬০, পাস ২৯, ফেল ৩১ (৫১ দশমিক ৭ শতাংশ), জিপিএ-৫ একজন
মানবিক: ৪৭ জনের মধ্যে পাস ২১ (এর মধ্যে জিপিএ-৫ ১), ফেল ২৬ (৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ)।
ব্যবসায় শিক্ষা: ১৩ জনের মধ্যে পাস ৮, ফেল ৫ (৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ)।
কলেজটিতে বিজ্ঞান বিভাগ নেই। ফেলের বড় অংশ মানবিক বিভাগের।
কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী : ৫৬, পাস ২৯, ফেল ২৭ (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ), জিপিএ-৫ নেই
মানবিক: ২১ জনের মধ্যে পাস ৮, ফেল ১৩ (৬১ দশমিক ৯ শতাংশ)।
ব্যবসায় শিক্ষা: ১২ জনের মধ্যে পাস ৫, ফেল ৭ (৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ)।
বিজ্ঞান: ২৩ জনের মধ্যে পাস ১৬, ফেল ৭ (৩০ দশমিক ৪ শতাংশ)।
কলেজটির মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ফেলের হার ৫০ শতাংশের ওপরে। বিজ্ঞান বিভাগ তুলনামূলক ভালো করেছে।
সেন্ট মেরিস গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী : ২৩৬, পাস ২০৯, ফেল ২৭ (১১ দশমিক ৪ শতাংশ), জিপিএ-৫ সাতজন
পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ, উপজেলার সর্বোচ্চ।
ব্যবসায় শিক্ষা: ৯০ জনের মধ্যে পাস ৮৬ (এর মধ্যে জিপিএ-৫ ৪), ফেল ৪ (৪ দশমিক ৪ শতাংশ)।
মানবিক: ১০০ জনের মধ্যে পাস ৭৭ (এর মধ্যে জিপিএ-৫ ১), ফেল ২৩ (২৩ শতাংশ)।
বিজ্ঞান: ৪৬ জনের সবাই পাস, এর মধ্যে জিপিএ-৫ ২।
উপজেলার ১০টি জিপিএ-৫-এর ৭টিই এই কলেজের। এমনকি এই কলেজের সবচেয়ে দুর্বল বিভাগ মানবিকেও ফেলের হার (২৩ শতাংশ) অন্য কয়েকটি কলেজের সেরা বিভাগের চেয়ে কম।
সেন্ট নিকোলাস স্কুল এন্ড কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী : ৫১, পাস ৩০, ফেল ২১ (৪১ দশমিক ২ শতাংশ), জিপিএ-৫ নেই
ব্যবসায় শিক্ষা: ৪৩ জনের মধ্যে পাস ২৬, ফেল ১৭ (৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ)।
মানবিক: ৮ জনের মধ্যে পাস ৪, ফেল ৪ (৫০ শতাংশ)।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ঢালী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ
মোট পরীক্ষার্থী : ২৫, পাস ৫, ফেল ২০ (৮০ শতাংশ), জিপিএ-৫ নেই
ফেলের হারে উপজেলার সর্বোচ্চ। প্রতি পাঁচজনে চারজন ফেল করেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা: ৭ জন পরীক্ষা দিয়েছে, কেউ পাস করেনি।
মানবিক: ১৮ জনের মধ্যে পাস ৫, ফেল ১৩ (৭২ দশমিক ২ শতাংশ)।
আজমতপুর আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মোট পরীক্ষার্থী : ৪৯, পাস ৩০, ফেল ১৯ (৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ), জিপিএ-৫ নেই
মানবিক: ৪৩ জনের মধ্যে পাস ২৮, ফেল ১৫ (৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ)।
ব্যবসায় শিক্ষা: ৬ জনের মধ্যে পাস ২, ফেল ৪ (৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ)।
ফেলের সংখ্যা সবচেয়ে কম হলেও পাসের হার (৬১ দশমিক ২ শতাংশ) সেন্ট মেরিসের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বিভাগভিত্তিক ফল
মানবিক: ৫৯৯ জনের মধ্যে ফেল ৩১০ (৫১ দশমিক ৮ শতাংশ), পাস ২৮৯, জিপিএ-৫ ৩। উপজেলার একমাত্র বিভাগ, যেখানে ফেলের সংখ্যা পাসের চেয়ে বেশি।
ব্যবসায় শিক্ষা: ৩৭৭ জনের মধ্যে ফেল ১৬৪ (৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ), পাস ২১৩, জিপিএ-৫ ৫।
বিজ্ঞান: ১৪০ জনের মধ্যে ফেল ৩৭ (২৬ দশমিক ৪ শতাংশ), পাস ১০৩, জিপিএ-৫ ২। আটটির মধ্যে মাত্র চারটি কলেজে এই বিভাগ আছে।
বিজ্ঞানের তুলনামূলক ভালো ফলের একটি কারণ হতে পারে সেন্ট মেরিসের শতভাগ পাস, যা এই বিভাগের মোট ফলকে ওপরে তুলেছে।
আটটির মধ্যে চারটিতে (ঢালী, জামালপুর, শ্রমিক ও মহিলা কলেজ) অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।
১০টি জিপিএ-৫-এর সবই তিনটি প্রতিষ্ঠানের: সেন্ট মেরিস (৭), জামালপুর (২), মহিলা কলেজ (১)।
মানবিক বিভাগে মাত্র একটি কলেজে (সেন্ট মেরিস) ফেলের হার ৩০ শতাংশের নিচে। আজমতপুরে তা ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ।