মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: “হারের কারণ যুদ্ধ”, ট্রাম্পকেই দুষলেন ভান্স

পরাজয়ের ধাক্কায় প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: “হারের কারণ যুদ্ধ”, ট্রাম্পকেই দুষলেন ভান্স

রয়টার্স 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির দায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তের ঘাড়ে চাপিয়েছেন উপপ্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “হারের কারণ যুদ্ধ।” এ নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, দুটিরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ভান্স পোস্টে আরও লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট নিজেও আগের রাতে একই কথা বলেছেন। যুদ্ধ সার্থক ছিল বলে কেউ যুক্তি দিতে চাইলে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেট হারানোকেও যে মূল্য হিসেবে মেনে নিতে হবে, সে কথাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ভান্সের নাম আলোচনায় আছে।

ফল প্রকাশের পর ট্রাম্প মেনে নিয়েছেন, যুদ্ধ তাঁর দলের ক্ষতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেননি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

পরাজয়ের পরদিন সকালে সাংবাদিকদের ডেকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন বলরুম ঘুরিয়ে দেখান। প্রায় এক ঘণ্টার ওই অনুষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন অল্প সময়। ডেমোক্রেটরা ধ্বংসাত্মক না হলে তাঁদের সঙ্গে মানিয়ে চলার কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর হাতে ভেটোর ক্ষমতা আছে।

সিনেটে ডেমোক্রেটরা অন্তত ৫৪টি আসন পেয়েছেন, রিপাবলিকানরা ৪৪টি। আলাস্কা ও মিসিসিপির ফল বুধবার সকাল পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি। দুটিতে জিতলে ডেমোক্রেটদের আসন দাঁড়াবে ৫৬-তে। প্রতিনিধি পরিষদে দলটি অন্তত ৩০টি আসন বাড়িয়েছে।

রিপাবলিকানদের দুর্গ বলে পরিচিত রাজ্যগুলোতেও ধস নেমেছে:

– টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম সিনেট আসনে জিতেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী। হেরে গেছেন তিন মেয়াদের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট।

– কানসাসে প্রায় এক শতাব্দী, অর্থাৎ মহামন্দার পর, প্রথম ডেমোক্রেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।

– সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের বেছে দেওয়া সিনেট প্রার্থী হেরেছেন। ২০২৪ সালে এই রাজ্যে ট্রাম্প প্রায় ১৮ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন।

রয়টার্স ও ইউএসএ টুডের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত বেশির ভাগ ভোট গণনা হওয়া প্রায় ২ হাজার ১০০ কাউন্টির ৯৯ শতাংশেই রিপাবলিকানদের সমর্থন কমেছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ফলাফলকে দলের জন্য “প্রায় বিলুপ্তি-সম ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন।

পরাজয়ের ধাক্কায় প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসছে। স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, আগামী বছর তিনি দলের সদস্যদের নেতৃত্ব দেবেন না। সিনেটের রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেছেন, ডেমোক্রেটদের বামপন্থী অংশকে তাঁরা সরকারের কাজ উল্টে দিতে দেবেন না।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, তাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে নয়, কাজ করবেন আমেরিকার জনগণের জন্য। তিনি স্পিকার নির্বাচিত হলে হবেন এই পদে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি দলকে বলেছেন, শুধু ক্ষমতা জেতা যথেষ্ট নয়, তা কাজে লাগাতে হবে।

জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস বসলে ডেমোক্রেটরা ট্রাম্প প্রশাসন, তাঁর পরিবার ও মিত্রদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবেন। সিনেটে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগও আটকে দিতে পারবেন তাঁরা। তবে ততদিন ক্ষমতা রিপাবলিকানদের হাতেই থাকছে। ডিসেম্বরের পর সরকার চালু রাখতে একটি তহবিল-বিল পাস করতে হবে, যা তাঁরা নিজেদের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারেন।