থানায় মাইক বাজিয়ে ওসির জন্মদিন, অতিথি ছিলো মাদক ব্যবসায়ীরাও!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী আখাউড়া থানা কম্পাউন্ড গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ছিল জমজমাট। একের পর এক আমন্ত্রিত অতিথিরা সমবেত হচ্ছিলেন বিশেষ আয়োজনে। যাদের সবাই স্থানীয় প্রভাবশালী- জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা। উপলক্ষ একটাই- আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসূল আহমেদ নিজামীর জন্মদিন।

প্রথমে ওসি নিজামীকে তার অফিসকক্ষে ফুল দিয়ে জানানো হয় শুভেচ্ছা। পরবর্তীতে বিশিষ্ট অতিথিদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন তিনি। এরপর থানা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মাইক বাজিয়ে গানবাজনা ও নৃত্যানুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন কয়েকশ’ নির্বাচিত নিমন্ত্রিত অতিথি, যাদের সবাই স্থানীয় প্রভাবশালী। এই অতিথিদের অনেকের বিরুদ্ধে আবার সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায় জড়িত ও মদদ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে!

গানবাজনা ও নৃত্যানুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য ছিল নৈশভোজের আয়োজন। এতে তাদের বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূইঁয়া, আখাউড়া পৌরসভা মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, পৌর যুবলীগ সভাপতি মো. মনির খান, সাধারন সম্পাদক আবু কাউছার ভূইঁয়া, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল ওরফে এ্যারো বাবুল ও যুবলীগ নেতা মুক্তা হোসেন ফয়সালসহ আরো স্থানীয় প্রভাবশালীরা অংশ নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এ উপজেলার অনেক মাদক চোরাচালানি ও তাদের মদতদাতা গডফাদারদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন করেছেন ওসি। বৃহস্পতিবার রাতের এ অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। খোদ থানা কম্পাউন্ডের মধ্যেই এসব অপরাধীদের নিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করে তিনি এদের অপকর্মের প্রতি নিজ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।

এর প্রেক্ষিতে একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ওসি রসূল আহমেদ নিজামীর সঙ্গে। জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন ছিল না বলে ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন তিনি। ওসির দাবি, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়!