গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : করোনা ভাইরাস টেষ্ট কীট প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক হায়দার আলী তাঁর ব্যাক্তিগত ফেসবুকে শনিবার (২৫এপ্রিল) রাতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন ‘গ্যাড়াকলে মেয়র আর বিজ্ঞানীর করোনা ভাইরাস টেষ্ট কীট’!!
ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তা হুবহু প্রকাশ করা হলো:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া চীন থেকে করোনা টেষ্টের জন্য ৭০ হাজার পিসিআর টেষ্ট কীট নিয়ে এসেছিলেন গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অধীনে পর্যাপ্ত কীট নেই বলে যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে খুবই অল্প সময়রে মধ্যেই চীন থেকে করোনা টেষ্টের জন্য কীট আনেন গাজীপুর সিটির মেয়র। কিন্তু কোটি কোটি টাকার কেনা ৭০ হাজার কিটের একটিও এখন কাজে আসছে না। এতো এতো টেষ্ট কীট কেন আসছে না, কারণ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কীট আমদানি করেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর ওইসব কীটের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অতিজরুরী রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দেশের মানুষকে বাঁচাতেই অনুমোদন ছাড়াই মেয়র সাহেব কীট ধরলাম নিয়েই এসেছেন, কিন্তু সেই কীটগুলো এখন পরীক্ষা করে গুণগত মান যাচাই করে, কীটের মান ঠিক থাকলে কি এটা অনুমোদন দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে এসব কীট কি ব্যবহার করা যায় না? অনুমোদন ছাড়া কীট এনে কি গাজীপুরের মেয়র বিরাট অপরাধ করে ফেলেছেন? তিনি তো কোন নেতার আর্শিবাদপুষ্ট ঠিকাদার নয়- যে কোটি কোটি টাকার কীট সরবরাহ করে মুনাফা গুনবেন দ্বিগুন টাকা কিংবা অনুমোদন না নিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজন আর পরিবারের জন্য এসব কীট এনেছেন।দেশের বিশেষ মুহুর্তে এসব কীট এনেছেন দেশের মানুষের জন্যই। উল্টো অনুমোদন না নিয়ে কীট আনায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পিন্ডি চটকাচ্ছনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ কেউ। এসব কীটই অনুমোদন নিয়ে আনতে গেলে কয়েক মাস লেগে যেতো মনে করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর অনুমোদন নিয়ে একই কীট দেশে আনা হলে নিশ্চয়ই সরকার ব্যবহার করতো! এখন ঠি নিয়ে বড় প্রশ্ন অনুমোদন নেয়া আর না নেয়ার।
মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মিডিয়ার কাছে বার বার দাবী করেছেন, যেসব কীট চীন থেকে আনা হয়েছে, সেটা নিজের উদ্যোগে আনা হয়েছে। দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে, ভয়ংকর দুর্যোগ অতিদ্রুত মোকাবিলা করতেই আনা হয়, এসব কীট তো আমার আত্সীয় স্বজন আর পরিবারের জন্য আনা হয়নি। সরকারের এমন দু:সময়ে অনুমোদন না নিয়েই কীটগুলো আনা হলেও পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্টরা কীটের মান পরীক্ষা নীরিক্ষা করেই অনুমোদন দিয়ে কীটগুলো ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না, ওই কীটগুলো এখন অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেতো এখনো কীটের দেখাই পেতাম না।
অনুমোদন ছাড়া চীন থেকে কীট এনে মহাভারত অশুদ্ধ করেছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, সেটা না হয় বুঝলাম কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত করোনা টেষ্ট কীটের বিষয়ে এতো লুকোচুরী খেলা কেন? যিনি অল্প সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ টেষ্ট আবিস্কার করে সারাদেশে প্রশংসিত হন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞানী বিজন কুমারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে উৎসাহ দেন এবং টেষ্ট কীট তৈরীতে নানাভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানীর অনুমতি প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বিজন কুমারের আবিস্কৃত করোনা টেষ্ট কীট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধদিপ্তরের কেউ উপস্থিত হননি।
এখানে কেন উপস্থিত হননি? দেশে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ কীট আবিস্কার করে উনারা আবার কি অপরাধ করলো? দেশের একজন খুদে নাগরিক হিসেবে খুব জানতে মন চায়।
####
লেখক : সাংবাদিক হায়দার আলী
২৫ এপ্রিল, ২০২০