পোশাক কারখানা খুলতেই শিল্পাঞ্চলে সংক্রমণের হার বাড়ছে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো চালুর পর শিল্পাঞ্চলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এসব এলাকায় নতুন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই পোশাক শ্রমিক। সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এ সংক্রমণের হার বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা। অপরদিকে দেশের চার শিল্পাঞ্চলে শিগগিরই করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করার কথা জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে গত ২৬ এপ্রিল থেকে চালু হয় দেশের তৈরি পোশাক কারখানা। তখন থেকেই শিল্পাঞ্চলে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন শ্রমিক নেতারা। তারা বলছিলেন, দেশের পোশাক কারখানায় কাজ করেন যে ৪৪ লাখ শ্রমিক, তারা শিল্পমালিকদের মুনাফার বলি হতে যাচ্ছেন।

গত ১৪ এপ্রিল সাভারে করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর পরের ১৬ দিনে মাত্র ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ২৯ এপ্রিলের পর থেকে এই সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে। পরবর্তী ১২ দিনে চারগুণ বেড়ে গেছে করোনায় আক্রান্ত রোগী। ১১ মে পর্যন্ত সেখানে মোট ৮২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকই ৪৭ জন। শতকরা হিসেবে এ হার ৫৭ শতাংশ।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা এ বিষয়ে বলেন, ‘পোশাক কারখানাগুলো যখন বন্ধ ছিল তখন কিন্তু পজিটিভ রোগীর সংখ্যা এতো ছিল না।’

যখনই কারখানাগুলো খুলেছে তখনই তাদের এখানে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সামনে আমাদের যে কি হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না!’

তবে বিপরীত চিত্র গাজীপুরে। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এ জেলায় ১১ মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩৫৯ জন, যাদের মধ্যে মাত্র ১৫ জন পোশাক শ্রমিক। তবে জেলার স্বাস্থ্য কর্মীরা পোশাক কারখানাগুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খাইরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টসগুলোতে অভিযান চালাচ্ছি। যাদের জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি আছে তাদের নমুনা আমরা সংগ্রহ করছি।’

আর কিছুদিন গেলেই যা পাওয়া যাচ্ছে সেটাই আসল চিত্র নাকি আরো বাড়ার প্রবণতা আছে তা তারা বুঝতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

কারখানা চালু হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলেও করোনার সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা। ভেতরে কাছাকাছি থেকে কাজ করা এবং কারখানায় প্রবেশ-প্রস্থানের সময় সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতার কারণেই পোশাক শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ‘শ্রমিকদের কিন্তু খুব কাছাকাছি থেকে কাজ করতে হয়। কারখানার ভিতরের বিষয়টা আমরা না দেখলেও কারখানার বাইরে তারা যেভাবে মিছিলের মত করে যাচ্ছে তা কিন্তু খুবই বিপজ্জনক।’

মালিকরা তাদের মুনাফার জন্য শ্রমিকদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এ শ্রমিকনেতা।

অবশ্য এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিল্পমালিকরা। তারা বলছেন, ইতোমধ্যে গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া নারীশ্রমিকদের জন্য আইসোলশন সেন্টার তৈরির কথাও জানিয়েছেন তারা।

পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল দিপু বলেন, ‘কর্মজীবি নারীদের জন্য গাজীপুরে একটা হোস্টেল আছে। সেখানে যারা থাকে তাদেরকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করে পুরো জায়গাটা আমরা নারী শ্রমিকদের বরাদ্দ করবো।’

ব্যবসায়ীদের টাস্কফোর্সের প্রধান শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই চারটি ল্যাব করার চেষ্টা করছি। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এগুলোর জন্য যন্ত্রপাতি চলে আসবে।’ এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সকল ব্যবস্থা গ্রহণের আশা প্রকাশ করেন তিনি ।

এছাড়াও ভাইরাসটির সংক্রমণ বিষয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে বিজিএমইএ। এলাকাভিত্তিক কাজ করার জন্য ৪টি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে তাদের কাজও শুরু করে দিয়েছে।