গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড তথা ভাদার্ত্তী গ্রামে নানা পেশার মানুষের বসবাস। আর এই গ্রামের মূল সড়কটি দিয়ে পার্শ্ববর্তী তুমুলিয়া ইউনিয়ন এবং নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দার যাতায়েত।
সম্প্রতি ‘ভাদার্ত্তী আলোকিত সংঘ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের ফেসবুক গ্রুপের ওয়ালে পোস্ট করা কিছু ছবিতে সড়কটির দুর্দশার কারণে মানুষের ভোগান্তির বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।
ফেসবুকের পোস্টে বলা হয়েছে, ‘এটা হচ্ছে আমাদের ভাদার্ত্তী মেইন রোড, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সোজা রাস্তাটির এখন মুমূর্ষু অবস্থা, বর্তমানে লাইফ সাপোর্ট-এ আছে, কারণ বিগত ১০ বছরেও এর কোন চিকিৎসা করা হয়নি। অনতি বিলম্বে এর সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় অতিশিগ্রই প্রাণ হারাবে রাস্তাটি’।
‘রাস্তাটির জীবন বাঁচাতে স্বহৃদয়বান কর্তৃপক্ষের (পৌরসভার) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি’।

এরপর ওই পোস্টে মন্তব্য করে নিউইয়র্ক প্রবাসী নাইম আহমেদ লিখেছেন, ‘এটা কোন রাস্তার ছবি হতে পারেনা। মেয়রকে স্মারকলিপি দাও। এত সংঘটন তোমাদের, কারো কোন মাথাব্যাথা নেই। মেয়র কেন এ রাস্তা মেরামত করছেনা তার জবাব দিতে হবে।’
প্রিন্স চৌধুরী নামে অপর একজন মন্তব্য করে লিখেছেন ‘ভাদার্ত্তীবাসিরা প্রায় ১০ বছর বা তার ও বেশি সময় ধরে কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহ ও অবহেলার শিকার। এর কারন খুঁজে বের করে সমাধান করা জরুরি। নইলে অদুর ভবিষ্যতে এই গ্রামটি একটি পরিত্যক্ত গ্রামে পরিনত হবে।’
স্থানীয়রা জানায়, ‘এই সড়কটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল সম্ভব নয়। যানবাহনে চলাচল করতে হয়। তারপরও যানবাহন যেতে চায় না লক্কর-ঝক্কর সড়কটি দিয়ে। আর একটু বৃষ্টি হলেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পরিণত হয় অবহেলিত সড়কে। ইচ্ছে করলে চাষ দিয়ে ধান রোপণও করে ফেলা যায়। এই সড়কের বেহাল দশা গেল ৮-১০ বছর ধরে। এই সড়কের পাশে রয়েছে হা-মীম গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং সড়কটি পেরিয়েই যেতে হয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালীগঞ্জ জোনাল অফিসে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারের অধিক মানুষ যাতায়াত করে। জনস্বার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করতে পারে’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘খানাখন্দে ভরে যাওয়া সড়কটি দিয়ে আমরা চলাচল করতে পারি না। বৃষ্টি হলে এই সড়কে যাওয়া ছেড়ে দেই। জানি না এই সড়কটি নির্মাণে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বোধোদয় হবে কী না? এই এলাকায় বসবাস করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আওমীলীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতা, রয়েছেন কালীগঞ্জে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িও। তবু সড়কটি সংস্কারে নেই কোনো উদ্যোগ। ফলে সড়কের দুর্দশায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা মানুষ। তবে সম্প্রতি হা-মীম গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতর দিয়ে থাকা সড়কটি ব্যবহার উপযোগী করাতে বিকল্প হিসেবে অনেকটাই ঘুরে ওই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়’।
সড়কটির বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পৌর এলাকায় সড়ক ও ডেন নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পৌর ভবন নির্মাণসহ পৌর এলাকার সার্বিক উন্নয়নে মেগা প্রজেক্টের আওয়তায় প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ভাদার্ত্তী গ্রামের ওই সড়কটি জরুরী ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি’।