গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কাশিমপুরে পাঁচ বছরের শিশু রিয়া মনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ বালু চাপা দিয়ে রেখেছিল দুই কিশোর।
গত ৯ আগস্ট দুই কিশোর মিলে ধর্ষণ করে শিশু রিয়া মনিকে। পরে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে রিয়া মনিকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ ওই এলাকার নির্মাণাধীন একটি পরিত্যাক্ত বিল্ডিংয়ে বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখে দুই কিশোর।
ঘটনার ২ মাস ২৩ দিন পর জড়িত কিশোরদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শিশু রিয়া মনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপর জেলা শাখার সদস্যরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর গাজীপুর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায় পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।
গ্রেপ্তার মো. রাসেল ওরফে রাহুল (১৪) যশোরের ঝিকরগাছা থানার কুন্দিপুর এলাকার মো. আব্দুল করিমের ছেলে ও সবুজ (১৪) কাশিমপুর থানার বাগবাড়ি এলাকার নসিব সিকদারের ছেলে।
নিহত শিশু রিয়া মনি নাটোরের সিংড়া থানার থলকুড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। রিয়া মনির বাবা-মা কাশিমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ”গত ২৯ অক্টোবর নগরীর কাশিমপুর বাগবাড়ী এলাকার ক্যাপ ফ্যাক্টরির পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন পরিত্যাক্ত একটি বিল্ডিংয়ের বালুর নিচ থেকে অজ্ঞাত এক শিশুর মাথার খুলিতে সামান্য হালকা চুলসহ এবং চোয়ালের হাড়সহ ছোট-বড় মোট ১৯ টি হাড়, চামড়া ও একটি হাফপ্যান্ট উদ্ধার করে জিএমপি’র কাশিমপুর থানা পুলিশ। ওই শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কাশিমপুর থানার (এসআই) কামরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাতানামা আসামীদের বিরুদ্ধে ৩০ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরবর্তীতে স্থানীয় ভাবে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তদের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে”।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান আরো বলেন, ”তদন্তের একপর্যায়ে ১ নভেম্বর রাত পৌণে ১২ টার দিকে যশোরর ঝিকরগাছার কুন্দিপুর এলাকার নিজ বাড়ী থেকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত রাসেল ওরফে রাহুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে ২ নভেম্বর ভোর রাতে ঘটনায় জড়িত তার সহযোগী ও বন্ধু সবুজকে তার নিজ বাড়ি কাশিমপুরের বাগবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার কে পিবিআই-এর সদস্যরা”।
আসামিদের বরাত দিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো বলেন, ”গ্রেপ্তার রাসেল ওরফে রাহুল ও তার বন্ধু সবুজ শিশুটিকে বিভিন্ন সময় চকলেট ও বিস্কুট কিনে দিত। ঘটনার দিন গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা দুই বন্ধু মিলে রাহুলের ঘরের মধ্যে শিশু রিয়া মনিকে ধর্ষণ করে। পরে রিয়া মনি ঘটনাটি তার বাবা-মাকে বলে দেয়ার কথা বললে তারা তাকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে তার লাশ ওই এলাকার নির্মাণাধীন পরিত্যাক্ত একটি বিল্ডিংয়ের বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখে”।
সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।