উন্নয়ন তখনই সার্থক, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ ও নিরাপদ করে

এ কথা বলেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

উন্নয়ন তখনই সার্থক, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ ও নিরাপদ করে

বিশেষ প্রতিনিধি

“উন্নয়ন তখনই সার্থক, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ ও নিরাপদ করে” এ কথা বলেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। 

বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, খাল খনন, কৃষক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ রক্ষার মতো প্রতিটি পদক্ষেপ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইতিবাচক সমাজ গড়তে সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, জেলার কৃষকদের জন্য চালু হয়েছে ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ঋণ, ভর্তুকি, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের সেবা পাবেন। পাশাপাশি বছরে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তাও সরাসরি পাবেন তাঁরা।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান জানান, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবার চিহ্নিত করতে শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে পাইলট এলাকা হিসেবে বেছে নিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোহেল রানা ও জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসেন জানান, চৌক্কার খালের ৭০ শতাংশ এবং রাউতকোনা খালের ৮০ শতাংশ খনন কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া লবণদহ নদী, গাছা খাল ও চীলাই খালের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগ জলাবদ্ধতা নিরসনে ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রশিদ ই-হেলথ কার্ড চালু এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির জানান, জেলায় প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে আড়াই লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবুজ গাজীপুর গড়ার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

জেলা তথ্য অফিসার শামীমা নাসরিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।