রুশ ধনকুবেরদের নতুন গন্তব্য তুরস্ক?

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জের ধরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে মস্কোর ওপর। এতে বিপাকে পড়েছেন রুশ অলিগার্করা। ধনকুবেরদের বিনিয়োগের খাত কমেছে। এতে ব্যবসায় ভাটা পড়েছে অলিগার্কদের। তবে বর্তমানে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে রুশ বিত্তশালী এ শ্রেণীর মধ্যে। সম্প্রতি তুরস্ককে বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন গন্তব্য হিসেবে দেখছেন রুশ অলিগার্করা। এক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়ে যায়। খবর সিএনবিসি।

সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু জানান, পর্যটক কিংবা বিনিয়োগকারী হিসেবে রুশ অলিগার্কদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত তুরস্ক। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে আইনত বৈধ থাকবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেন, কিছু বিত্তশালী গোষ্ঠী আমাদের এখানে কার্যক্রম স্থানান্তর করতে পারে। এরদোগানের বক্তব্যের একদিন পরই রুশ অলিগার্কদের বিনিয়োগে স্বাগত জানালেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটভুক্ত না হলেও রুশ প্রতিপক্ষ জোট ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র। মেভলুত কাভুসোগলুর সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি করেছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। আশঙ্কা রয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত ধনকুবেরদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে তুরস্ক। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, এরই মধ্যে তুরস্কে বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সন্ধানে রয়েছেন ধনকুবের রাশিয়ানরা।

এদিকে তুরস্কের আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও মার্কিন দূতাবাসের সাবেক অর্থনীতিবিদ ডেফনে আরসলান বলেন, রুশ পুঁজির আকর্ষণ দীর্ঘমেয়াদে তুরস্কের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তুরস্কের মধ্যপন্থী কূটনৈতিক অবস্থান রয়েছে। মস্কোর আক্রমণের ঘোর সমালোচনা করছে তুরস্ক সরকার। আবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউর মতো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থেকেছে দেশটি। নিষেধাজ্ঞা জারি করাকে তুরস্কের নীতিবিরোধী বলে জানিয়েছে দেশটি। বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে তুরস্ক।

রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ অবস্থানে তুরস্কের স্বার্থ আছে। রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। এর কারণে এখন পর্যন্ত তুরস্কের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে এতদিন নীরব দর্শক ছিল পশ্চিমা মহল। তবে সত্যিই যদি পশ্চিমা নিষিদ্ধ রাশিয়ার সম্পদ তুরস্কে বিনিয়োগ শুরু হয়, তবে পশ্চিমাদের ধৈর্য্যে ফাটল ধরা অস্বাভাবিক না।

এদিকে অর্থনৈতিকভাবে আগে থেকেই বিপন্ন অবস্থায় তুরস্ক। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেশটির অর্থনৈতিক মন্দায় আরো ইন্ধন জুগিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির মূল্যস্ফীতির হার ২০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ওই মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়ায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে ডলারের বিপরীতে তুর্কি লিরার রেকর্ড দরপতন হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী দেশটিতে।

ইউরেশিয়া গ্রুপের পরিচালক ও তুরস্ক বিশেষজ্ঞ এমরে পেকার বলেন, ইউক্রেনে রুশ হামলা তুরস্কের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশটিতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে তুরস্কের পর্যটন বাধাগ্রস্ত হবে। যুদ্ধের প্রভাব ইউক্রেন ও রাশিয়ায় তুর্কি বিনিয়োগের ওপর পড়বে।

এ সত্ত্বেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিমা পরাশক্তিদের না চটিয়ে রুশ ধনকুবেরদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ তুরস্কের জন্য লাভবান হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি অনুকূলে গেলে তুরস্কের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে হাজির হতে পারে।