গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত কোন প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। একই পরিণতি বরণ করে নিতে হচ্ছে ইমরান খানকেও।
জাতীয় পরিষদের ১৭৪ জন সদস্য তার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীদের প্রয়োজন ছিল ১৭২ ভোট।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় চালু হওয়া অধিবেশনে চলে নানা নাটকীয়তা। প্রধানমন্ত্রীকে পদচ্যুত করতে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রে’ অংশ নিতে পারবেন না জানিয়ে মধ্যরাতে পদত্যাগ করেন স্পিকার আসাদ কায়সার। রাত বারোটার পর প্যানেল স্পিকার পিএমএল-এন নেতা আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে নতুন অধিবেশনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলাফলে নিশ্চিত হয় ইমরান খানের বিদায়।
শনিবার অধিবেশনের শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন না ইমরান খান৷ ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরীফ, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি, পিএমএল-এন সহ-সভাপতি মরিয়ম নওয়াজসহ অনেকেই৷
দেশের ধসে পড়া অর্থনীতি এবং ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো৷ গত ৭ মার্চ জাতীয় পরিষদের সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় তারা৷ ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল এই অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি৷ পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট৷
বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক রায় দেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট৷ ডেপুটি স্পিকারের রুলিং অসাংবিধানিক উল্লেখ করে সংক্ষিপ্ত রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, অনাস্থা ভোটপর্ব নিয়ে বেশি দেরি করা চলবে না৷ আর অনাস্থা ভোটের ফলাফল ঘোষণা না করে অধিবেশন শেষ করা যাবে না৷
রায়ে বলা হয়, এই অবস্থায় সংবিধান অনুসারে ইমরান খান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করতেই পারেন না৷ তার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তও তাই অসাংবিধানিক৷ এর ফলে প্রধানমন্ত্রী, সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পরামর্শদাতারা তাদের পদ ফিরে পাবেন বলে রায়ে বলা হয়৷
শুক্রবারও ইমরান খান বলেছেন তাকে সরানোর পরিকল্পনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে৷ ইসলামাবাদের মসনদ পাল্টানোর ষড়যন্ত্র করছে যুক্তরাষ্ট্র যা তিনি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবেন৷ তিনি এও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ হয়েছেন, কিন্তু যেহেতু পাকিস্তানের বিচার বিভাগের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন৷