গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবারের (২৩ জুন) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, জাহেদ উর রহমান স্বেচ্ছায় ঢাকায় ফিরে গেছেন। তবে বাংলাদেশের ভাষ্য ভিন্ন।
ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) ২৮তম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে ১৪ জুন সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। ১৫ ও ১৬ জুনের ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই তাঁকে আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেবে কি না, সেটাও স্পষ্ট করছিল না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে জাহেদ উর রহমান সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ ও দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে পরদিন তিনি ঢাকায় ফেরেন।
ঘটনার পরদিন ১৫ জুন ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পুরো ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জাহেদ উর রহমান ব্যক্তিগত পাসপোর্টে সার্ক ভিসায় ভারতে এসেছিলেন।
বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিমানবন্দরে কেন দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল বা জিজ্ঞাসাবাদের কারণ কী ছিল — সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।